কেউ কেউ হয়তো ভাবেন, সব কথা বলা যায়। বললেই বলা যায়। কথার ওপর তো ট্যাক্স নেই। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এমনই এক ব্যক্তি। যে–‌রাজ্যের তিনি ‘‌সাংবিধানিক অভিভাবক’‌ (‌পরিচালক নন)‌, সেই রাজ্য সরকারকেই অকথা–‌কুকথা বলতে তঁার আটকায় না। এক মাসের আরাম–‌সফরে গেছেন পাহাড়ে। দু–‌এক ঘণ্টার জন্য মাঝেমধ্যে নামছেন সমতলে, একটু বেড়ানো তো চাই!‌ ওএসডি–‌কে দিয়ে ডেকে পাঠাচ্ছেন উপাচার্যদের। এই বিরল অভদ্রতার জবাব পেয়েছেন, উপাচার্যরা যাননি। পাহাড়ে বসে কথা বললেন কংগ্রেস নেতার সঙ্গে, হয়তো পরামর্শ নিলেন, আর কীভাবে সরকারের শত্রুতা করা যায়। তবু কাজ বেশি নেই। টুইট আছে। তৃণমৃলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘‌ভেবেছিলাম পাহাড়ে গিয়ে মাথাটা ঠান্ডা হবে। হয়নি। আজেবাজে কথা বলে চলেছেন।’‌  রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতের পুতুল, সবাই জানেন। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কেশিয়ারি রাত দুটোয় নোটিস দিয়ে ভোর পঁাচটায় সংখ্যালঘু বিজেপি সরকারের শপথের ব্যবস্থা করেছিলেন। কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে দেখা করে সরকারবিরোধী বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন টুইট তিনিও করে উঠতে পারেননি। রেকর্ড ধনকড়ের। সম্প্রতি যা ঘটল, নিশ্চয় অভূতপূর্ব। গোবিন্দ আগরওয়াল নামে এক ‘‌চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে’‌ গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশ। তিন বছর আগে হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকায় তিন ব্যক্তিকে দেড় কোটি টাকা–‌সহ ধরা হয়েছিল। যোগ পাওয়া গিয়েছিল এক অবৈধ অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে। অভিযোগ, যুক্ত গোবিন্দ আগরওয়াল। অভিযোগ ঠিক কিনা, দেখা যাবে। কিন্তু এমন অপরাধে অভিযুক্তর হয়ে টুইট করলেন রাজ্যপাল মহোদয়। ভাবা যায়?‌ বলা যায়?‌ যায়, যদি রাজ্যপালের নাম হয় জগদীপ ধনকড়।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top