হঠাৎ নয়। অনেক বছর ধরে, বামফ্রন্ট জমানার সময় থেকেই আরএসএস বাংলায় সক্রিয়। ধীরে ধীরে বিষ ছড়িয়েছে। তবু, মাথা তুলতে পারেনি। মোদি–‌শাহরা নগ্নভাবে সক্রিয় হলেন। বাংলা দখল করার মরিয়া চেষ্টা। সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় মদত। বিপুল অর্থ। ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালিকে বিভক্ত করায় কিছু অন্য দলের মদত। এবার চূড়ান্ত যুদ্ধ। একদিকে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে সচেতন ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি, অন্যদিকে গেরুয়া বাহিনী। মাঝে কিছু ভোটকাটুয়া।
চক্রান্তের একটা ধাপ রাজ্যপাল হিসেবে জগদীপ ধনকড়কে পাঠানো। মুখোশের কারবার নেই, সরাসরি মমতা–‌বিরোধী, বাংলা–‌বিরোধী অসভ্যতা। রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার কথা। তার বদলে, বিরোধিতা, কটু প্রচার, রাজ্য বিজেপিকে পরামর্শ, কেন্দ্রকে সেবা।
বাংলা যেহেতু দুর্গ, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার দুর্গ, চূর্ণ করতে চায় ওরা। চূর্ণ করার আগে দখল করা। বাংলা থাকবে বাংলারই মতো, যেমন ছিল, দুর্গ, তা কি আমরা চাই?‌ যদি চাই, প্রতিরোধ করতেই হবে, নানা রঙের ভোটকাটুয়াদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিতেই হবে। অপপ্রচার, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়, ধারাবাহিক চক্রান্ত।
সময় এসেছে, আর উপেক্ষা করা যাবে না, আর নীরব দর্শক থাকা যাবে না। শুধু সাম্প্রদায়িক প্রচার নয়, নানারকম অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, চোখ বুজে বিশ্বাস করার ফঁাদে পা দেওয়া চলতে পারে না, যদি চাই, বাংলা থাকুক আমাদের গর্বের বাংলাই।
বিজেপি নেতারা একটা মজার হিসেব দিয়ে চলেন। কোথাও কিছু না হলেও, প্রতি সপ্তাহে সংখ্যা বাড়িয়ে চলেন, এত এত জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এই লেখার দিন শুনলাম ১৩২। ৩২ জনের তালিকা দিতে পারবেন?‌ হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভবিক মৃত্যু ঘটল। ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই গেরুয়া চিৎকার। খুন, খুন, তৃণমূল, তৃণমূল। পরে দেখা গেল, সুদের কারবার করতেন দেবেন্দ্রনাথ, লেনদেনের সূত্রে সঙ্কট, হতাশা, আত্মহত্যা। সাত দিন হল্লা, আর ‘‌খুন খুন’‌ বলে চিৎকার নেই। ভুলে যাওয়া ছাড়া উপায় কী?‌ পরিবারের শোক ও ক্ষতি নিয়ে ভাবতে কুকথাবাবুদের বয়ে গেছে।
বর্ধমানের পূর্বস্থলিতে একজনের মৃত্যু। জলমগ্ন। অভিযোগ, খুন করে ডুবিয়ে দিয়েছে। কে ডোবাল?‌ কে আবার, তৃণমূল, তৃণমূল। দু’‌দিন ভয়ঙ্কর চিৎকার। নেতাদের হুঙ্কার। তিনদিন পর দেখা গেল, মত্ত অবস্থায় পুকুরে ডুবে মৃত্যু। পরিবারের লোকও অভিযোগে গলা মেলাননি। বলছেন, পুলিশ যেন তদন্ত করে। স্থানীয় সিপিএম বিধায়কও বলেন, অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, জেনেছি, মদ খেত বেশি, মত্ত অবস্থায় ডুবে মারা গেছে।
শিলিগুড়িতে বর্গীদের উত্তরকন্যা অভিযান। পুলিশ এতটাই মসৃণভাবে সামলাল, বড় গন্ডগোল পাকানো গেল না। পাওয়া গেল একটি ডেডবডি। তারস্বরে দিলীপবাবুদের চিৎকার, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু। বুলেট নেই শরীরে। শটগানের পেলেট। যা পুলিশ ব্যবহার করে না, যা বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল। পরিবারকে বোঝানো হল, ভুল পোস্টমর্টেম রিপোর্ট। কোর্টে পেশ করা হল সেই রিপোর্ট। পরিবারের লোকেরা অভিযোগ তুলে নিয়ে মৃতদেহ নিলেন। মিথ্যার ফানুস ফেটে গেল।
এদিকে চ্যানেলে সান্ধ্য আসর। একজন তৃণমূলের, অন্যদিকে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম–‌এর প্রতিনিধি। তিনজনের মূলত এক সুর। যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচার ধরা পড়ে, যখন মৃতদেহের রাজনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে, আর আলোচনা নেই। চলো, নতুন কিছু খঁুজি। খুঁজে না পেলে, খঁুড়ি‌!‌
কেন্দ্রীয় চক্রান্ত। ডায়মন্ড হারবারে জে পি নাড্ডার কনভয়ে ‘‌গোলমাল’‌।‌ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তো ছিলই। যাত্রাপথেও শান্তি সুনিশ্চিত করার জন্য রাজ্যের ব্যবস্থাও বিপুল। অতিরিক্ত বুলেটপ্রুফ গাড়ি। ১ ডিআইজি, ৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৮ ডিএসপি, ১৪ ইনস্পেক্টর, ৭০ এসআই/‌এএসআই, ৪০ র‌্যাফ কর্মী, ২৫৯ কনস্টেবল, ৩৫০ সিভিক পুলিশ। হামলা?‌ কী হয়েছে?‌ ঢিল পড়েছে!‌ নাড্ডার গায়ে আঁচ লাগেনি। বিজয়বর্গীয়র নাকি হাত ভেঙেছে। এমনই হাত ভেঙেছে যে, পরদিন থেকেই ফের কর্মসূচি।
পথে এক জায়গায় তৃণমূলের একটি সভা ছিল। কনভয় থেকে এক দাগি কু নেতা কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করলেন। ক্ষুব্ধ কর্মীরা। কয়েকটা ঢিল পড়ল। ঢিল, ঢিলই। কে আহত হলেন?‌ কোনও ব্যান্ডেজ?‌ নাঃ। প্রশ্ন ওঠে, নেতার সঙ্গে কেন ৫৫ গাড়ির কনভয়, অনুমোদনহীন আরও গাড়ি, শতাধিক বাইক। গোলমালটা কারা পাকাল?‌ যাতে কেন্দ্রীয় অসভ্যতা হতে পারে, রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ হতে পারে। ষড়যন্ত্র নয়?‌
কিছু বিজেপি নেতা বলে যাচ্ছেন, রাষ্ট্রপতির শাসন চাই। হতাশা?‌ জলপাইগুড়ির জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বললেন, ৩৫৬ করবে?‌ করে দেখুক না। .‌.‌.‌ হ্যাঁ করে দেখাক। আরও ভালভাবে উড়বে নেত্রীর জয়পতাকা। চক্রান্তের চিত্রনাট্য সাজানো–‌গোছানো। মিথ্যা ভাঙতে আমরা পারি। পারব।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top