‌‌মাঠ–‌ময়দানের রাজনীতি টিভি–‌র স্টুডিওতে বসে হয় না। কন্দর্পকান্তি, রূপবান হলেই নেতা হওয়া যায় না। শচীন পাইলটের ব্যর্থতার পর অশোক গেহলট একহাত নিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। নবীনদের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে প্রবীণদের— এই অতি সরলীকরণ আর যেখানেই হোক, রাজনীতিতে খাটে না। বন্ধু জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পরামর্শেই শচীন চাল দিয়েছিলেন, কিন্তু হিসেব মেলাতে পারেননি। বস্তুত জ্যোতিরাদিত্যর পিসি বসু্ন্ধরার কথাটা সম্ভবত মাথায় রাখেননি। রাজস্থানের আরএলপি নেতা হনুমান বেনিওয়াল প্রকাশ্য টুইটে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন বসুন্ধরা রাজের বিরুদ্ধে। জানিয়েছেন, বসুন্ধরাই কংগ্রেস বিধায়কদের জনে জনে ফোন করে গেহলটের পক্ষে থাকতে বলেছেন। স্বাভাবিক। মধ্যপ্রদেশের পর রাজস্থানও জ্যোতিরাদিত্য দখল করতে পারলে বিজেপি–‌তে বসুন্ধরা অস্তিত্বহীন হয়ে যাবেন। অপারেশন গেহলট নিয়ে বিজেপি নেতাদের ঘরোয়া বৈঠকেও যাননি বসুন্ধরা। এমনিতেই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের জমানায় তিনি আদৌ পাত্তা পাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখতেই পারেন। মোদ্দা কথা, নিজের দলের অঙ্কে শচীন ভুল করেছেন, বিজেপি–‌র অভ্যন্তরীণ সমীকরণও পড়তে পারেননি। সরকারে ফিরতে বিজেপি–‌র ৩০ বিধায়ক দরকার, শচীন জোগাড় করতে পেরেছেন মাত্র ১৯। সেক্ষেত্রে অশোক গেহলট, হ্যঁা, বয়সে প্রবীণ হলেও, অনেক বেশি বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বসে আছেন। নির্বাচিত, সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার ফেলতে শচীন পাইলট যে অনৈতিক পথ নিয়েছেন, তা কি সংবিধানসম্মত? অত্যুৎসাহী সংবাদমাধ্যমকেও এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে? সরকার ভাঙতে যে অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে তার শেষ কবে? অর্থনীতি ধুঁকছে, হাজার হাজার মানুষ মরছে, এ–‌ই কি রাজনৈতিক উড়ানের আদর্শ সময় শ্রীযুক্ত পাইলট?‌

জনপ্রিয়

Back To Top