কঠিন সময়, ১০০০ কোটি টাকা খরচ করার আগেও অনেক ভাবতে হবে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য। আরও বলেছেন, ‘‌দৈবদুর্বিপাকে’‌ আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। আর্থিক সঙ্কট তো ঘনীভূত হচ্ছিল, অতিমারীর হানার আগে থেকেই, এই কথাটা এখন না–‌ইবা মনে করালাম। সঙ্কটকালে অকারণ খরচ, অপব্যয় হওয়ার কথা নয়। সোজা কথা, অপব্যয় ঘোর অন্যায়। পূর্বঘোষিত সাধারণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কী হবে?‌ যদি আবশ্যিক হয়, যদি আর্থিক অগ্রগতির সহায়ক হয়, করা যেতে পারে। কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। ১ কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক চরম দুর্গতি ভোগ করেছেন। ঘরে ফেরার পথে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তঁাদের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা সরকারের প্রাথমিক কর্তব্য ছিল। উল্টে, শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনের ভাড়া সমস্যায় থাকা রাজ্যের ঘাড়ে চাপানো হল। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বারবার বলেছেন, অন্তত স্বল্পবিত্ত মানুষদের হাতে নগদ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া দরকার। অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, কৌশিক বসুরা এখনও বলে চলেছেন। ভ্রুক্ষেপ নেই কেন্দ্রের। কিন্তু, খরচের একটা দিকে তাকালে স্তম্ভিত হতে হয়। নতুন দিল্লিতে, বিশেষ এলাকায় প্রকল্প। খরচ ২০ হাজার কোটি টাকা। সংসদ ভবন, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি হবে। সঙ্গে ১০টি সরকারি ভবন। অধিকাংশই এখনও যথেষ্ট ভাল অবস্থায়। এটা নিশ্চয় সাজানোর সময় না। ভাবুন, এই টাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কিছুটা উন্নতি করা যেত, অন্তত ১৫টি এইমস গড়া যেত।‌‌ কেন্দ্রীয় সূত্রে বলা হয়েছে, ২০ হাজার কোটি টাকায় অনেকে কাজ পাবেন!‌

জনপ্রিয়

Back To Top