ক্ষমতার অপব্যবহার কতখানি হতে পারে, তা দেখা যাচ্ছে ভারতে। ২০০৬ সালে তৈরি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (‌বিপর্যয় মোকাবিলা আইন)‌ হয়তো একতরফা ছিল না। কিছু কল্যাণমূলক ব্যাপারও ছিল। সম্প্রতি সবিস্ময়ে দেখলাম, সেই দিকটার থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকল কেন্দ্রীয় সরকার। যতটুকু ছিল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার আশঙ্কা, তা স্পষ্ট হল। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকেই তছনছ করে যা হল, এক–‌দুই শাসক ও বাছাই–‌করা কয়েকজন প্রশাসকের স্বেচ্ছাচার। জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে হচ্ছে রাজ্যকে, সাহায্য দূরের কথা, বিব্রত করার জন্য উঠেপড়ে লাগল কেন্দ্র, ৫–‌৭ জনের ‘‌কেন্দ্র’‌। বলা যায়, চক্র। উদাহরণ অজস্র। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সচিব হুমকি দিয়ে চিঠি দিচ্ছেন রাজ্যের সর্বোচ্চ স্তরের প্রশাসকদের, দেখা গেল। আর একটা ঘটনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দূরদর্শন সরকারি সংস্থা। বিশেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রচারিত হয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনা যায়। আকস্মিক বিপদের দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও ডাকার নজির আছে। ১৯৯২ সালে, বাবরি সৌধ ধ্বংসের পর, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকেও ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দূরদর্শন। এবার, এই ভয়ানক সঙ্কটের দিনে, মুখ্যমন্ত্রীদের বলার সুযোগ দেওয়া হল কি?‌ না। মুখ্যমন্ত্রীরা নিশ্চয় রাজনৈতিক ভাষণ দিতেন না। মানুষকে সচেতন করতেন, ভরসা দিতেন। দেশে কোথাও হয়নি, তা বাংলায় হল। কলকাতা দূরদর্শনে ভাষণ দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কুৎসিত আক্রমণ করলেন সেই সরকারকে, যে–‌সরকারের তিনি নাকি ‘‌অভিভাবক’‌।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top