মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে শিবরাজ সিং চৌহানের আমল বিতর্কহীন ছিল না। ব্যাপক কেলেঙ্কারি গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঢেউ তুলেছিল। তেমন জুতসই জবাব দিতে পারেননি শিবরাজ। সন্দেহ নেই, এত বড় মাপের কেলেঙ্কারি দেশে খুব বেশি ঘটেনি। কেন্দ্রে বিজেপি শাসন না থাকলে, সিবিআই কার্যত নিষ্ক্রিয় না থাকলে, জল অনেকদূর গড়াত, মুখ্যমন্ত্রীর দরজাতেও পৌঁছে যেত। আরও কিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শিবরাজের লম্বা জমানায়, নির্বাচনী প্রচারে সবটাই উঠে এসেছে। ১৫ বছর আগে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অন্য কোনও নাম ওঠেনি। তঁার কাছাকাছি মাপের কেউ ছিলেন না। দলে তঁার বিশেষ কোনও প্রতিপক্ষ পাওয়া যায়নি পরের ১৫ বছরেও। এবারও, জিতলে, তিনিই হতেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যাপক কেলেঙ্কারির দাগ রাজনৈতিক জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না শিবরাজ। তবু, তঁার নেতৃত্বে দল পরাজিত হলেও, এখনও গুরুত্বপূর্ণ নেতা শিবরাজ সিং চৌহান। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদির নাম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে প্রভাব খাটাল আরএসএস, আপত্তি করেছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা পেলে নরেন্দ্র মোদি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারেন, সে আশঙ্কা প্রবীণ নেতাদের ছিল। শুধু আদবানি নন, যশোবন্ত সিনহা–‌মুরলীমনোহর যোশিরাও মোদিকে সামনে রেখে ভোটে যেতে চাননি। তখন অন্য কোনও নাম উঠেছিল কি?‌ হ্যঁা, শিবরাজ সিং চৌহান। এবার দলের মধ্যেই ইতিউতি আলোচনা শুরু হয়েছে, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পেলে, আরও শরিক পেতে হলে, অন্য কাউকে আনা হতে পারে। নীতিন গাডকারি, রাজনাথ সিং, এবং হ্যঁা, শিবরাজ সিং চৌহান— যিনি সদ্য ক্ষমতাচ্যুত একটি রাজ্যে। দারুণ ছবি দেখা গেল শপথ অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের হাত তুলে ধরলেন শিবরাজ, মুখে হাসি। বার্তা, রাজ্যের স্বার্থে সহযোগিতা করবেন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top