পদ্মাবতী। ছবির নাম পাল্টে হল ‘‌পদ্মাবত’‌। এই ছবি ঘিরে অনেক আগে থেকেই যা চলেছে, এখনও যা ঘটে চলেছে, ভাবা কঠিন ছিল। এই অদ্ভুত আলোড়ন বা আন্দোলন থেকে কে কী পেল?‌ কর্ণী সেনা নামে এক অল্পখ্যাত সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়ল রাজপুত গর্বের নামে। চিতোর–‌রানি পদ্মাবতীকে নাকি খুব বিচ্ছিরিভাবে দেখানো হয়েছে। প্রসূন যোশির নেতৃত্বে সেন্সর বোর্ড নাম পাল্টে এবং চার–‌পাঁচটি কাটছাঁট করে মুক্তির ছাড়পত্র দিয়েছে। কর্ণী সেনা সন্তুষ্ট নয়। চলবে না, ছবিটি দেখাতে দেওয়া চলবে না। প্রযোজকরা আমন্ত্রণ জানালেন ওঁদের, এসে দেখে যান, কোথায় আপত্তি বলুন। প্রথমে যাওয়ার কথা বলেও ‘‌না’‌ বলে দিলেন কর্ণী সেনার নেতারা। দেখলে যদি ফাঁক খুঁজে না পান, ঝুঁকি নেওয়া যায়!‌ তাণ্ডব শুরু হয়ে গেল। হরিয়ানায় আক্রান্ত হল বাচ্চাদের স্কুলবাস। ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষিকাদের বাসের সিট–‌এর নিচে বসে নিজেদের বাঁচাতে হল। হরিয়ানার বর্বরদের নেতৃত্বে কে?‌ সুরজপাল আমু। যিনি দীপিকার ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাক কাটার হুমকি দিয়েছিলেন। কুকথার জেরে তীব্র সমালোচনা, দলের রাজ্য শাখার এই কীর্তিমান মুখপাত্রকে আপাতত পদ থেকে সরাল বিজেপি, বহিষ্কার কিন্তু নয়। কারণ, বিজেপি–‌ই তো ধুনো দিচ্ছে তথাকথিত আন্দোলনে। লক্ষ্য রাজপুত ভোট। এমনিতে তো হাওয়া খারাপ। বলা যায়, বিজেপি কিছু ভোট পেল, হয়তো। অখ্যাত কর্ণী সেনা পেল ব্যাপক প্রচার। কংগ্রেস আশ্চর্যরকম ‘‌‌নিরপেক্ষ’। হিংসার বিরুদ্ধে, স্কুলবাসে হামলার নিন্দায় মুখর, কিন্তু অন্যায়ভাবে একটা ছবিকে আটকানো নিয়ে প্রায় নীরব। দিগ্বিজয় সিং তো কার্যত কর্ণী সেনার পক্ষেই বললেন। কী পেল কংগ্রেস?‌ ‘‌নরম‌ হিন্দুত্ব’‌ দিয়ে কিছু ভোট?‌ দেখা যাক। নিশ্চিতভাবেই বড় প্রাপ্তি প্রযোজকদের। কিছু রাজ্যে দেখানো না গেলেও, দেশে সুপারহিট ‘‌পদ্মাবত’। বিদেশেও রমরমিয়ে চলবে। বিনে পয়সায় এত প্রচারের ব্যবস্থা শুধু বর্বররাই করতে পারে!‌ ‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top