এত বেশি জনসভা করতে চাইছে বিজেপি, প্রচুর নেতা লাগবে। তিনশোর বেশি সভা নাকি বাংলায়, মোদি–শাহ ক’‌টাইবা করবেন?‌ সম্প্রতি ঘুরে গেলেন সুশীল মোদি। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। তাঁর রাজ্য কত ভাল, বোঝাতে গিয়ে বললেন, টানা দেড় দশকে পঞ্চায়েতে অনেক কাজ হয়েছে, নিশ্ছিদ্র শান্তি, ইত্যাদি। বলতে গিয়ে মনে রাখলেন না, এর মধ্যে একটা সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আরজেডি। ‘‌টানা’‌ শব্দটা ব্যবহার করা ঠিক হল?‌ কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার কথা কত বেশি ভাবে, বোঝাতে গিয়ে কিছু ভুল তথ্য দিলেন। যা ধরে ফেলার জন্য খুব বেশি জানতে–শুনতে হয় না। বললেন, ‘‌এই প্রথম একজন বাঙালিকে ভারতরত্ন দেওয়া হল এবং তা দিল নরেন্দ্র মোদির সরকারই।’‌ এই প্রথম!‌ পাশ থেকে একজন ভুল শুধরে দিলেন, তখন সুশীল মোদি:‌ ‘‌হ্যাঁ হ্যাঁ, এর আগে বিধানবাবু পেয়েছেন।’‌ যিনি শুধরে দিলেন, তাঁরও জানার দৌড় বিধান রায় পর্যন্ত। ডাঃ রায় ভারতরত্ন খেতাব পেয়েছিলেন ১৯৬১ সালে। শুধু রাজনীতিক–প্রশাসক হিসেবে নয়, কিংবদন্তি চিকিৎসক হিসেবেও। বিধানচন্দ্র রায় এবং প্রণব মুখার্জির সম্মানপ্রাপ্তির মধ্যবর্তী ৫৮ বছরে আরও চার বঙ্গসন্তান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন। অরুণা আসফ আলি (‌গাঙ্গুলি)‌। ব্যাপক পরিচিতি না থাকলেও অরুণার অনেক গুণ ছিল। সত্যজিৎ রায়। যাঁর নাম, এমনকী, সুশীল মোদির মতো বিজেপি নেতারও জানা উচিত এবং মঞ্চে পাশে–থাকা বঙ্গীয় নেতাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। রবিশঙ্কর। বিশ্বখ্যাত সেতারবাদকের নামটা মনে পড়ল না ওঁদের?‌ এবং অমর্ত্য সেন। চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িকতা–বিরোধী, সে জন্য নামটা বাদ?‌ এরকম ভুলভাল কথা বিজেপি নেতারা বলেই চলবেন। সুশীল মোদি বলে ফেললেন, অনেক বিহারবাসী বাংলায় কাজ ও সম্মান পেয়েছেন। ঠিক। যখন গুজরাটে ও মহারাষ্ট্রে বিহারীদের তাড়ানোর অভিযান, তখন কথাটা বলা সেমসাইড গোল হয়ে গেল না?‌ ওঁরা আসুন। যত আসবেন, তত ভাল!‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top