‌মমতা ব্যানার্জি নিজে নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি পছন্দ করেন না। কলকাতায় ছোট্ট গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেন। মানুষের সঙ্গে মিশতে মিশতেই বড় হয়েছেন। পাহাড়ে গিয়ে যেভাবে হেঁটে বেড়ান, স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলেন, অভূতপূর্ব। তিনি এইরকমই। কিন্তু, বাংলার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে তো ভাবতেই হবে। এবং যাঁদের ওপর সেই সুরক্ষার দায়িত্ব, তাঁদের কাজে কোনও ফাঁক থাকবে না, আমরা চাইব। দক্ষিণ দিনাজপুরের হেমতাবাদে দেখা গেল, ফাঁক আছে, যথেষ্টই ফাঁক। নিরাপত্তার ত্রিস্তর বলয় টপকে কী করে মঞ্চের কাছে পৌঁছে গেলেন দুই বোন, একজন মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে পায়ে পড়ে গিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করলেন, ভাবলে অবাক হতে হয়। ‘‌ডি’‌ এলাকার দায়িত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ রক্ষীরা। একটা বলয় ভেদ করাই উদ্বেগজনক, দ্বিতীয় স্তরও টপকে  যাওয়া বিস্ময়কর, শেষ স্তরটিও বিশেষ মুহূর্তে অকেজো হয়ে গেলে আমাদের আতঙ্কিত হতে হয়। তাঁর জন্য আছে জেড প্লাস নিরাপত্তা, তিনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, তিনি ভারতীয় রাজনীতির নক্ষত্র। তাঁর নিরাপত্তায় গলদ কেন?‌ সন্দেহ নেই, একটা ছক কষেই সভাস্থলে গিয়েছিলেন দুই বোন। বাসস্থান, এক বোনের চাকরি ইত্যাদি পেয়েছেন। সে যা–‌ই হোক, গলদ কোথায়?‌ ভারপ্রাপ্ত অফিসাররা নিশ্চয় খতিয়ে দেখবেন। কেন এক বোনকে আটকাতে সেই দিকেই চলে গেলেন মহিলা কর্মীরা, অন্য দিকটা ফাঁকা হয়ে গেল?‌ ‌তিনটে বলয় টপকে যাওয়ার সময় কেউ আটকালেন না কেন,‌‌ মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে, নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ কেউ মোবাইল ফোনে মগ্ন কেন, কোনও আগাম খবর থাকল না কেন, ভাবতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই, যেন এমন ফাঁক আর না থাকে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top