নেই। চাই। আইকন। বিজেপি খুঁজে চলেছে। আরএসএস–এর প্রতিষ্ঠাতারা জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দূরের কথা, তেমন পরিচিতও নন। দীনদয়াল উপাধ্যায়কেও আইকন হিসেবে খাড়া করা অসম্ভব। কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেলকে ছিনতাই করার চেষ্টা চলছে। সেই প্যাটেলকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যিনি আরএসএস–কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বিজেপি–র দলিতবিরোধী মনোভাবের পরিচয় দেশের নানা প্রান্তে প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে, তবু আম্বেদকরকে নিয়ে টানাটানি করছেন নরেন্দ্র মোদি। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার হাত থেকে শিবাজিকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বাংলায় কী করা যাবে?‌ দু’‌জনের নাম ওঁদের মুখে। স্বামীজি ও নেতাজি। বিবেকানন্দর চিন্তাভাবনার সঙ্গে কত তফাত বিজেপি–র, বিস্তারিত আলোচনা করলে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত বলি নেতাজির কথা। এবারও ২৩ জানুয়ারি নেতাজি জয়ন্তী সাড়ম্বরে পালিত। বাংলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জনপ্রিয়তা তুলনাহীন। রাজ্যের বোধহয় একটাও ব্লক নেই, যেখানে নেতাজির নামে ক্লাব নেই, দোকান নেই। ফরওয়ার্ড ব্লক অনেক বছর ধরে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানাচ্ছে, ২৩ জানুয়ারি দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষিত হোক। জাতীয় ছুটির দাবি তুলে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবার রাজ্য বিজেপি সভাপতিও চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় সরকারকে, ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হোক। বিজেপি কিছু অনুষ্ঠানও করল। নেতাজির নাম কাদের মুখে?‌ স্বাধীনতা আন্দোলনে সঙ্ঘ পরিবারের কোনও অবদান নেই। বরং ওঁদের কেউ কেউ ব্রিটিশ সরকারকে মদত দিয়েছেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য শুধু অগ্রগণ্য কংগ্রেস নেতা হিসেবেই কাজ করেননি, আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ব্রিটিশ শক্তিকে কাঁপিয়ে গেছেন। বলতেন, ‘‌স্বাধীনতা সবার অধিকার, সব দেশের মানুষের অধিকার।’‌ বিজেপি চূড়ান্ত দক্ষিণপন্থী, নেতাজি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। ‌বিজেপি উল্টো, নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজে নারীশক্তিকে জাগ্রত ও সম্মানিত করেছিলেন। নেতাজি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরী, বিজেপি কী, আমরা জানি। নেতাজির নাম ওদের মুখে মানায় না।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top