যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার সমাবর্তন ভাষণ দিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। গণতন্ত্রে তর্ক ও দ্বিমতের জায়গা নিয়ে তিনি বরাবরই সোচ্চার। সংসদে দলের সদস্যদেরও হইচই পছন্দ করতেন না, বিরোধীদের ভাল বক্তৃতা মন দিয়ে শুনতেন। যাদবপুরে তাঁর ভাষণের বিশেষ গুরুত্ব আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানবিজ্ঞানের উচ্চস্তরের চর্চার সঙ্গে রয়েছে তর্ক ও আন্দোলনের ঐতিহ্য। সেখানেই বললেন, লেখাপড়া তো হবেই। হবে গবেষণা। কিন্তু কোনও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ হতে পারে না সুস্থ তর্কের পরিবেশ ছাড়া। যাদবপুরের বিভিন্ন শাখা থেকে ডিগ্রি পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা দেশবিদেশে সম্মানজনক পদে নিযুক্ত ও প্রশংসিত হন। পঠনপাঠনের মান বরাবরই ভাল, উপযুক্ত শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। সর্বোচ্চ স্তরের গবেষণার জন্যও বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু, কেউ কেউ বলেন, ওখানে সারা বছর আন্দোলন এটা বা ওটা নিয়ে। লেখাপড়া হবে কখন?‌ হয়। হয় বলেই, কলা, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এত ছাত্রছাত্রী উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। অভিভাবকরা খুশি হন ছেলেমেয়েদের এই শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি করতে পেরে। পাশাপাশি আছে সামাজিক সচেতনতার ধারা। প্রণব মুখার্জির ভাষণ সেই ধারাকে আরও একবার স্বীকৃতি দিল। এবার ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেসের অধিবেশনের সংগঠনের দায়িত্বে ছিল যাদবপুর। নজরুল মঞ্চে বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন। বললেন, ‘‌যাদবপুর আমাকে ভালবাসতে পারে, না–‌ও পারে, কিন্তু আমি যাদবপুরকে ভালবাসি।’‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চয় অভিভূত হলেন। শুধু তা–‌ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎকর্ষের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। লাইব্রেরি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। যাবতীয় স্বীকৃতি প্রাপ্য যাদবপুরের। যোগ্য। এই যোগ্যতা ও স্বীকৃতি কিছু দায়িত্ব প্রত্যাশা করে। তর্ক হোক, আন্দোলন হোক, আন্দোলনের নামে যেন কখনও অসভ্যতা না হয়, দেখার দায়িত্ব যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদেরই।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top