২৭ লক্ষ ভোটারের ওপর সমীক্ষা করেছে ‘‌অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র‌্যাটিক রিফর্মস’‌। রিপোর্ট হল, দেশে নোটার চাহিদা বাড়ছে। অর্থাৎ ‘‌কোনও রাজনৈতিক দলকেই পছন্দ নয়, তাই ভোট দিলাম না কাউকেই।’‌ গণতান্ত্রিক এই অধিকার ভোটাররা পেয়েছেন। কোনও প্রার্থীকে পছন্দ না করবার কথা ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত গিয়ে ভোটযন্ত্রে বোতাম টিপে বলে আসছেন। সমীক্ষা বলছে, এই মনোভাব বাড়ছে। রিপোর্টটি অবশ্যই উদ্বেগজনক। কেন এমন হচ্ছে?‌ ইতিমধ্যেই সমাজবিশ্লেষক, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। যাঁরা ‘‌কাউকে পছন্দ নয়’‌ বলছেন, সংসদে বা বিধানসভায় তাঁদের কোনও প্রতিনিধি থাকছেন না। অর্থাৎ সরকার বা বিরোধী পক্ষেও তাঁদের কোনও অংশগ্রহণ নেই। তাই নোটাকে সমর্থন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন তো নয়, তাঁরা পথে বেরোবেন না। এমন তো নয় তাঁদের নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। এমন তো নয় তাঁরা সঠিক মূল্যে জিনিস কেনাবেচা করতে চান না। এমন তো নয় তাঁরা চান না, তা‌‌‌‌ঁদের পরিবার চাকরি পাক, কাজ করুক। এমন তো নয় তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসা চান না। এমন তো নয় তাঁরা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ চান না। এমন তো নয় যে তাঁরা দুর্নীতিহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেন না। এমন তো নয় তাঁরা স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে নন। এসবই তাঁদের অধিকার। প্রাপ্য। এই প্রাপ্য না পেলে কে তাঁকে শক্তপোক্ত করবে?‌ আর না পেলে কেই বা তাঁর প্রতিবাদ জানাবে? গণতান্ত্রিক অধিকারে তাঁরা ‘‌কাউকেই পছন্দ নয়’ জানাচ্ছেন, কিন্তু সমাজের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নিজেদের কোনও প্রতিনিধিই রাখছেন না।  তবে কি তাঁরা প্রাপ্যের বিষয়ে নিস্পৃহ থাকতে চান?‌ পছন্দ কি শুধু একজন ব্যক্তি প্রার্থীকেই?‌ দেশকে নয়? দেশের আর পঁাচজনের প্রয়োজনে নয়? নোটার সংখ্যা বাড়তে থাকলেও‌‌ সরকার তৈরি হবে। সেই সরকার যদি অন্যায়, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, ধর্মকে আঁকড়ে ধরে চলতে চায়, চলতেই থাকবে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নোটা কোনওদিনই পারবে না। সংসদীয় ব্যবস্থায় সেই সুযোগ নেই। এমনটা ঘটলে, নোটাও কি  পরোক্ষে মন্দ প্রতিনিধির পক্ষেই তাঁর সমর্থন জানাচ্ছেন না?‌ অন্য কাউকে ভোট দিলে, বদলের সুযোগ থাকে। আবার অন্যমত হল, নোটার সংখ্যাবৃদ্ধি দেখে রাজনৈতিক দলগুলির যেমন লজ্জা পাওয়া উচিত, তেমন সজাগ হওয়া দরকার। নিজেদের সংশোধন না করলে একদিন বড় ধাক্কা আসবে।

জনপ্রিয়

Back To Top