পুরসভা। পানীয় জল, নিকাশি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই ‌মূলত কাজ হয়। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে মানুষের দৈনন্দিন সুখ–‌স্বাচ্ছন্দ্যের কথা তুলে ধরেন। বিলেতে–‌আমেরিকায়, কিংবা দুনিয়ার অন্যত্র, ভাষিক–‌জাতিগত প্রবল উপস্থিতির কারণেই এই উপমহাদেশের মানুষদের আমরা বিভিন্ন পুরসভার মেয়রও হতে দেখেছি। সর্বত্রই পুরসভার নির্বাচনে প্রচারও হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজনভিত্তিক। সভয়ে লক্ষ্য করছি, ভারতীয় জনতা পার্টি এই ন্যারেটিভটাই বদলে দিচ্ছে। গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রচার করছেন অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা, যোগী আদিত্যনাথ, স্মৃতি ইরানি। ইস্তাহার প্রকাশ করছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। আরও অগুনতি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রচার চালিয়েছেন। প্রচারে নয়, আমাদের প্রশ্ন প্রচারের ভাষা নিয়ে। যোগী আদিত্যনাথ বলছেন হায়দরাবাদের নিজামি ঐতিহ্য মুছে দেওয়া হবে, শহরটার নাম রাখা হবে ভাগ্যনগর, তাহলেই সমৃদ্ধির বন্যা!‌ তেজস্বী সূর্য বলছেন,  অন্য দলকে ভোট মানে ভারতের বিরুদ্ধে ভোট। বিজেপি–‌র এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে সেই আধিপত্যবাদ। বস্তুত ‘‌পঞ্চায়েত টু পার্লামেন্ট’—‌ কিছুই ছাড়া যাবে না, এই তত্ত্বটি দিয়েছিলেন অমিত শাহই। ইতিমধ্যেই ৩৩০ সাংসদ নিয়ে কার্যত ভারতের ৭০ শতাংশ রাজনীতি বিজেপি–‌র নিয়ন্ত্রণে। প্রায় গোটা দেশেই কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিতে সফল তারা। আঞ্চলিক দল কোথাও কোথাও শক্তিশালী হলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি, যেন‌তেন প্রকারেণ আঞ্চলিক দলকে ভেঙে দিচ্ছে। কংগ্রেস এই মেরুকরণ ও আগ্রাসনের বদলে যাওয়া ন্যারটিভ সম্যক উপলব্ধি করতে ব্যর্থ। তারা পুরনো লড়াইয়ের ইতিহাসের জাবর চিবোতে ব্যস্ত। মুম্বইয়ের মীরা–‌ভাইন্ডর পুরসভার নির্বাচনেও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছুটে যাওয়ার পর একটাই পথ— মহারাষ্ট্র মডেল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top