দুনিয়ার সবথেকে লাভজনক ব্যবসা কী? অনেকেরই অনেক নাম মাথায় আসবে। জেনে রাখুন, ব্যবসাটার নাম কর ফাঁকি। দুনিয়া জুড়ে এই ব্যবসার জাল ছড়িয়ে রেখেছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলি। পরম ভক্তিতে যে পণ্যগুলি ঘরে তুলে আমরা আহ্লাদে আটখানা হই, জানি না কখন তার লভ্যাংশ চলে গিয়েছে বিদেশে। আন্তর্জাতিক কর ফাঁকির জাল বিরাট। ‘‌ট্যাক্স জাস্টিস’‌ নামে একটি সংগঠনের রিপোর্ট বলছে, গোটা দুনিয়ায় ২০২০ সালে ৩২ লক্ষ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ৪২৭ বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির মধ্যে ২৪৫ বিলিয়ন ডলার ফাঁকি দিয়েছে বহুজাতিকেরা। ধনকুবেরদের ফাঁকির পরিমাণ ১৮২ বিলিয়ন ডলার। ভারতে বিপুল ব্যবসা করার পর লাভের টাকা তারা এমন দেশে নিয়ে যায়, যেখানে কর শূন্য থেকে দশ শতাংশ মাত্র। নেদারল্যান্ডস, হংকং, বাহামা, সুইৎজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ বা ব্রিটেন তো আছেই। ঠিক সেই কারণেই বিজয় মালিয়া, নীরব মোদিদের প্রিয় ঠিকানা হয় লন্ডন। আর এই কর ফাঁকির ব্যবসার রমরমায় ভারতের ব্যাঙ্কে বাড়তে থাকে অনাদায়ী ঋণ, অনুৎপাদক সম্পদের বোঝা। এমন নয় যে, শুধু সরকারি ব্যাঙ্কই ধুঁকছে, বেসরকারি ব্যাঙ্কের হাল আরও শোচনীয়। আইএলএফএস, পিএমসি, ইয়েস ব্যাঙ্ক, ডিএইচএফএল, লক্ষ্মীবিলাস— ডুবে যাওয়া ব্যাঙ্কের তালিকা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই ১৪টি সরকারি ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, ৩ লক্ষ কোটি টাকা ঢেলে বাঁচিয়ে রেখেছে সরকার। ইয়েস ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণ ছিল ২ লক্ষ কোটির, এসবিআই ঢেলেছে ১০ হাজার কোটি—‌ সিন্ধুতে বিন্দু। পিএমসি ব্যাঙ্কের ১৫,০০০ আমানতকারীর মাথায় হাত পড়েছে, সরকার নিরুত্তাপ। এই সঙ্কট সমাধানের কোনও দিশা দেখাতে পারেনি মোদি সরকার। আজ লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্ক হংকংয়ের ডিবিএসের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ভোকাল ফর লোকালের এই নমুনা বুঝি!‌

জনপ্রিয়

Back To Top