এই সময়ের রীতি হল, নিজের ঢাক নিজে পেটাও। ঢাক না থাকলে সমস্যা নেই, ফেসবুক তো আছে। ফেসবুক পেটাও। একআনা করলে কী করলে না, পারলে কী পারলে না, হল কী হল না তাতে কিছু আসে যায় না। তুমি স্বঘোষিত ‘‌গুণী’‌। স্ব–প্রচারক। নিজের মেকি গুণ প্রচারে যেন খামতি না হয়। তবে সবাই এরকম নন। এই মিথ্যে ঢক্কানিনাদের আড়ালে নিঃশব্দে জীবন শেষ করেন কোনও কোনও খঁাটি গুণী মানুষ। এরকমই একজন সাখোয়াত হোসেন। বালাপোশ শিল্পী। বালাপোশ তুলো দিয়ে তৈরি অতি হালকা শীত–আবরণ। অতি শৌখিন এই আবরণ ব্যবহার করতেন নবাবেরা। তৈরি করতেন দক্ষ কারিগররা। শিল্পকর্মটি মুর্শিদাবাদের নিজস্ব ঘরানার। বালাপোশ তৈরি হয় কার্পাস তুলো দিয়ে। তুলোর বীজ ছাড়িয়ে, রঙে ডুবিয়ে, রোদে শুকিয়ে দক্ষ ধুনিরিরা ধুনে দেন। থাকে রেশম কাপড়, মখমল। একসময় ঢাকাই মসলিনও ব্যবহার করা হত। তুলো ভেজানো হত আতরে। করা হত বিশেষ ধরনের সেলাই। নবাবেরা গায়ে দিলে সুরভিত হত চারপাশ। বোঝাই যাচ্ছে বালাপোশ তৈরিতে থাকত কত পরিশ্রম, কত শিল্পবোধ। মুর্শিদাবাদ নিবাসী সাখোয়াত হোসেন এই শিল্পকর্মটি রপ্ত করেছিলেন। পেয়েছেন মানুষের প্রশংসা। পেয়েছেন পুরস্কার। একসময় মুর্শিদাবাদের বালাপোশ উপহার দেওয়া হত দেশ বিদেশের মানীগুণীদের। সাখোয়াত হোসেনের হাতে তৈরি বালাপোশ পেয়ে তঁারা মুগ্ধ হয়েছেন। ধীরে ধীরে এই শিল্পের কদর কমতে শুরু করে। সাখোয়াত হোসেনই সে অর্থে শেষ বালাপোশ শিল্পী। এই গুণী মানুষটিকে সেলাম। আশার কথা, এই শিল্পীর পুত্র–‌কন্যারা কথা দিয়েছেন, বাবার মতো না পারলেও তারা বালাপোশ তৈরির চেষ্টা করবেন। শিল্পটিকে হারিয়ে যেতে দেবেন না।

জনপ্রিয়

Back To Top