আগামী অর্থবর্ষে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের জিডিপি বেশি হবে। এই সমীক্ষার কথা শুনে অনেকের মাথায় হাত। সে কী!‌ বাংলাদেশ!‌ যেন বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে প্রতি বছর, এটা হতেই হবে। কৃষিক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে শেখ হাসিনার দেশে। বিশেষত বস্ত্রশিল্প আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাজার দখল করেছে। প্রতিবেশীর অগ্রগতিতে মর্মাহত হওয়ার কোনও সঙ্গত কারণ নেই। জিডিপি–‌ই‌ একমাত্র বিবেচ্য নয়। তাতে সব সূচক স্পষ্ট হয় না। সম্প্রতি ক্ষুধা সূচক সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা প্রকাশিত হল। ১০৪টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯৪ তম। আফ্রিকার কিছু দারিদ্রপীড়িত দেশ ছাড়া সবাই আমাদের চেয়ে এগিয়ে। ভাল জায়গায়। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, এমনকী পাকিস্তানও ভারতের চেয়ে ওপরে। ‘‌অচ্ছে দিন’‌ ঠিক এই জায়গায় এনে ফেলেছে আমাদের। ভারত নাকি ব্যাপক উন্নতির পথে, প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রায় প্রতিদিন বলে চলেছেন। অনেক লোক বিশ্বাস করছেন, নিশ্চয় করছেন, না হলে ওঁরা এত ভোট পেয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছেন কেন। নোটবন্দি, অর্ধসিদ্ধ জিএসটি— দুটি ভয়ঙ্কর ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, যা গরিব ও মধ্যবিত্তদের ধ্বংস করেছে। অতিমারীর সময়েও মানুষের জন্য সামান্যই ভাবা হয়েছে। মনে রাখা ভাল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসাম্য ও পুষ্টির সূচকে অনেক আগেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। কিছু অবস্থাপন্ন মানুষ ভারতে চিকিৎসা করাতে আসেন মানে এই নয় যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মন্দ। প্রতি তিনটি গ্রামে একটি করে ভালস্বাস্থ্যকেন্দ্র। ক’‌জন ভারতে পড়তে এলেন মানে এই নয় যে, সাধারণ শিক্ষায় প্রতিবেশী পিছিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতে বৈষম্য। আম্বানি–‌আদানিরা এই আকালেও আরও ধনী, দুর্গত সাধারণ মানুষ। হ্যাঁ, আমরা পিছিয়ে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top