ভারতীয় রেল বিশাল সংস্থা। গোটা দেশকে জুড়ে রাখায় রেলের ভূমিকা সকলেই স্বীকার করেন। অধিকাংশ কর্মীই নিষ্ঠবান, না–‌হলে এত বড় প্রতিষ্ঠান চলে কী করে। যেহেতু মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত, রেলের খবর জানতে আগ্রহের অভাব নেই। আলোচ্য খবর খাবার নিয়ে নয়। বিছানাপত্র নিয়ে। এসি কামরায় যাত্রীদের বিছানাপত্র দেওয়া হয়। কিছু অভিযোগ থাকলেও, যথেষ্ট ভাল। জানা গেল, গত এক বছরে রেলের কামরা থেকে বালিশ চুরি গেছে ৫৬ হাজার। বালিশের ওয়াড় ৩ লক্ষ। চাদর প্রায় এক লক্ষ। ছোট তোয়ালে ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার। কম্বল?‌ ৪৬ হাজার। কম্বল কী করে হাজারে হাজারে লোপাট, রহস্য বটে। ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছনোর আগে কর্মীরা নিয়ম করে সব কিছু ফিরিয়ে নেন, মিলিয়ে নেন। তাহলে এত কিছু উধাও হয়ে গেল কীভাবে?‌ রেলকর্মীদের একাংশই যুক্ত উধাও–‌কাণ্ডের সঙ্গে?‌ রেলের জিনিস আমাদেরই জিনিস, ওঁরা ভেবে নেন?‌ আবার বলছি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভগ্নাংশই হয়তো এর সঙ্গে যুক্ত। তদারকির দায়িত্বেও তো কারও থাকার কথা। যাত্রীদের একাংশই চৌর্যকর্মর সঙ্গে যুক্ত, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নামার সময়ে বিছানা–‌সরঞ্জাম নিয়ে নেমে যাচ্ছেন?‌ ভাবতে অসুবিধে হয়, কম্বলও এভাবে নিয়ে ট্রেন থেকে নামা যায়। কিছু অসৎ যাত্রী কি কম্বল চুরি করার জন্য আলাদা ঝোলা নিয়ে ট্রেনে ওঠেন?‌ কারও চোখে পড়ে না?‌ প্রশ্ন হল, কারা?‌ যাঁরা এসি কামরায় সফর করেন, তাঁরা প্রবল অনটনে–‌থাকা মানুষ নন। তাঁদের বাড়িতে বিছানাপত্র নেই, এমনটা নয়। গরিব মানুষ ব্যবহার করার জন্য বিছানা–‌সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন, বলা যাবে না। এসি কামরায় ভ্রমণ খরচসাপেক্ষ। তাহলে কি চুরির মজা?‌ সেই সব জিনিস ব্যবহৃত হলে, বাড়ির ছোটরা কী চোখে দেখবে? কেন চুরি?‌ অনটন নয়। বাড়িতে বিছানার অভাব নয়। তাহলে? মনস্তত্ত্ববিদরা ভেবে দেখুন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top