নেপালে রাজতন্ত্রের অবসানে, অন্যান্য দলের সঙ্গে বড় ভূমিকা ছিল বামপন্থীদের। তার আগে, মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গ্রামাঞ্চলে প্রবল আন্দোলনে কেঁপেছিল সরকার। ওই পার্টি এবং সিপিএন (‌কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল)‌ এতদিনের রাজতন্ত্রের অবসানে দেশবাসীকে পথ দেখান। মাওবাদী নেতা পুষ্পকুমার দহল বেশি পরিচিত ‘‌প্রচণ্ড’‌ নামে। পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। মাধব নেপাল, কেপি ওলি প্রমুখ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দলের প্রধান হিসেবে প্রচণ্ডের শক্তি সর্বজনস্বীকৃত ছিল। সিপিএন নেতা বাবুরাম ভট্টরাইও কিছুদিন সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন। জেএনইউ–‌এর প্রাক্তন ছাত্রনেতার নাম আবার উঠে এল, সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্রে। জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী এখন মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেপি ওলি। তিনি দলের সভাপতি। যুগ্ম–‌সভাপতি, সেই প্রচণ্ড, চীনপন্থী হিসেবে যঁার কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যেত। দেখা গেল, ওলি এখন সবচেয়ে বেশি চীনমুখী। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কয়েকবার একান্ত বৈঠক করেছেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব বঁাচাতে। যাতে দলের মধ্যে বেড়ে–‌ওঠা বিদ্রোহ থামানো যায়। হঠাৎ, উত্তরাখণ্ডের তিনটি জায়গাকে নেপালের বলে দাবি করলেন। সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে ভারতের জন্যও। কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি ওলির। অবশ্য, অন্য দলগুলোও সমর্থন করল, সংসদে নতুন মানচিত্র প্রতিষ্ঠিত হল সর্বসম্মতিক্রমে। এদিকে, দলে বিদ্রোহ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এত শত্রুতার কী দরকার?‌ সম্প্রতি ওলি বললেন, রামের জন্মভূমি আসলে ভারতের অযোধ্যায় নয়, নেপালের থোরি গ্রামে। খননকার্য শুরু হয়েছে!‌ ওলির দাবি, রামচন্দ্র নেপালি। শুধু একটা কথাই বলব। রাম তো পৌরাণিক চরিত্র, ইতিহাসের নয়। একজন কমিউনিস্ট নেতা হঠাৎ রামকে নিয়ে পড়লেন কেন?‌ ধন্য কমরেড ওলি!‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top