এই সঙ্কটকালে আমরা অনেক উদাহরণ পাচ্ছি, অমানবিক আচরণের। চিকিৎক, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে যঁারা ‘‌যুদ্ধ’‌ লড়তে গিয়ে সংক্রমিত হচ্ছেন, তঁাদের যেমন হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে, উপসর্গহীনদের অথবা মৃদু উপসর্গ যঁাদের, তঁাদের সেফ হাউসেও রাখা হচ্ছে। রাজ্যের নানা জায়গায় তৈরি হয়েছে, হচ্ছে উপযুক্ত সেফ হাউস। তাতে সাধারণ মানুষকে রাখা হচ্ছে, প্রয়োজনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও। সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনায় দুটি ঘটনা আমাদের ধাক্কা দিয়ে গেল। ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মীদের রাখা হচ্ছিল সেফ হাউসে, স্থানীয় কিছু মানুষ বাধা দিলেন। যঁারা আমাদের জন্য লড়ছেন, তঁাদেরই থাকতে দেওয়া হবে না। সুতরাং, সেফ হাউস রাখা গেল না। দুঃসময়ে শুধু মন খারাপ নিয়ে বসে থেকে লাভ নেই। ভাল দিকটাও দেখতে হয়। উত্তর চব্বিশ পরগনারই শ্যামনগরের ডাঃ প্রদীপকুমার ভট্টাচার্য। বলে এসেছেন, এলাকায় মানুষের জন্য যদি প্রাণপণ কাজ না করতে পারি, কেন ডাক্তার হলাম?‌ অনায়াসে ধনী হতে পারতেন। তিনি গরিবদের ফিরিয়ে দিতেন না। খুব অল্প টাকায়, কখনও কখনও বিনে পয়সায় বহু মানুষের চিকিৎসা করেছেন। এমন মানুষ সমাজে প্রণম্য। আক্রান্ত হওয়ার পর তঁাকে ভর্তি করা হল এক বেসরকারি হাসপাতালে। প্রাণ হারালেন। বিল উঠল ১৮ লক্ষ টাকা। হৃদয়বান চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষে এতটা দেওয়া সম্ভব ছিল না। স্বাস্থ্য কমিশনের ‘‌অনুরোধে’‌ বিল একটু কমল। তবু, ১৫ লক্ষ টাকা। শ্যামনগরের মানুষ ডাঃ প্রদীপকুমার ভট্টাচার্যের জন্য তহবিল তৈরি করেছিলেন। বেশ কিছু উঠল। কেউ দিলেন ৭০ টাকা, কেউ ১ লক্ষ। জনদরদি ডাক্তারকে হারাতে হল। কিন্তু মানুষের বিপুল সাড়া আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিল। শোকের মধ্যেও আমরা মুগ্ধ। আপ্লুত।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top