চুনোপঁুটি মোটেও ‘‌চুনোপঁুটি’ নয়‌। স্বাদে, গুণে তারা অনেক সময়েই ‘‌রুই কাতলা’‌কে হারিয়ে দিতে পারে। তবে আজ তারা দুষ্প্রাপ্য, মহার্ঘও বটে। বড় মাছ চিরকালই ছোট মাছকে গিলে গায়। মৎস্যপ্রেমীরা বাজারে গেলে এ কথা হাড়ে হাড়ে (‌‌নাকি মাছের কঁাটায় কাঁটায়?‌‌)‌ টের পান। চালানে আসা রুই–কাতলার দাপটে বাংলার চুনোপুঁটিরা নাভিশ্বাস ফেলছে। এক–দু’‌জন বিক্রেতা হাঁড়ি, ট্রে, ঝুড়ি নিয়ে কোনক্রমে কোনায় বসে থাকেন। পরিমাণ বেশিরভাগ সময়েই কম। ফলে দামও বেশি। পুঁটি, মৌরলা, চঁাদা, খয়রা নিয়ে বাজার থেকে বাড়ি ফেরা বাঙালির কাছে আজ একরকম বিলাসিতার পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। অথচ ছোট মাছ কোন মৎস্যপ্রেমী বাঙালিই না ভালবাসে? ভাতের পাতে‌ পুঁটি–‌মৌরলার ভাজা ঝোল ঝাল অম্বলে মুখে হাসি ফোটে না এমন কে আছে?‌ রকমারি রান্নায় এদের বাহার খোলে। বাংলার ঘরে ঘরে রাঁধুনিরা চুনোপঁুটির রেসিপিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতেন পারেন। শুধু কি স্বাদে?‌ মোটেও নয়। গুণেও এদের তুলনা মেলা ভার। ওইটুকু চেহারাতেই অফুরন্ত ফসফরাস। চোখের জন্য বড় উপকারী। থাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম। চিকিৎসকদের অনেক সময়েই পরামর্শ, ছোট মাছ খেতে হবে। কিন্তু উপায় নেই। চুনোপঁুটিরা হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে নানা কারণে। বড় মাছের দাপট ছাড়াও আছে খাল–বিলের দূষণ। মৎস্যজীবীদের উৎসাহের অভাব। আনন্দের কথা, এবার এগিয়ে এসেছে সরকার। সম্প্রতি বহরমপুরে শুরু হয়েছে চুনোপঁুটি খাল–বিল মেলা। ছোট মাছের আকাল দূর করতে এই উদ্যোগে রাঘববোয়ালরা খুশি না হলেও বাঙালি আহ্লাদিত হয়েছে। সকলেই চায় পাড়ার বাজারে চুনোপঁুটিরা বুক ফুলিয়ে হাজির হোক।

জনপ্রিয়

Back To Top