পণ্য পরিষেবা কর নিয়ে কেন্দ্র সরকার সুকৌশলে কথার খেলাপ করছে, যা রাজ্যগুলির কাছে রীতিমতো অশনিসঙ্কেত। বহু রাজ্যই জিএসটি মেনে নিতে চায়নি। চুঙ্গি করের মতো বেশ কিছু উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া তাদের কাছে উদ্বেগজনক ছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিই তখন ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবটি এনেছিলেন। অর্থাৎ পণ্য পরিষেবা কর চালু করতে গিয়ে রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতি কেন্দ্র সরকার মিটিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এই ক্ষতিপূরণ বাবদ সেস বার্ষিক ১৪ শতাংশ হারে বাড়বে। এই প্রস্তাবেই রাজ্যগুলি জিএসটি কার্যকর করতে রাজি হয়েছিল। করোনা–‌কালে পরিস্থিতি উল্টোদিকে ঘুরে গেল। কেন্দ্র সরকারের আদায় কম হয়েছে, এই যুক্তিতে আর্থিক দায় রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এবার রাজ্যগুলিকে ঋণ নিতে বলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে দেওয়া হয়েছে দুটি বিকল্প। প্রথমটি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে অল্প ঋণ নিতে পারবে রাজ্য। তার সুদ ভবিষ্যতে কেন্দ্র ক্ষতিপূরণ হিসেবে মিটিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তব এই যে, করোনা–‌মোকাবিলার খরচ, কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য কাজ চালু রাখতে অল্প ঋণে চলবে না। অথচ দ্বিতীয় বিকল্পটি রীতিমতো ভয়ঙ্কর। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে বেশি ঋণ নিলে তার সুদের ভার বহন করতে হবে রাজ্যকেই। অর্থাৎ ঋণের জালে জড়িয়ে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। এদেশে সরকারি বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্র সরকার ঋণ নিয়েই রাজ্যকে পাওনা মিটিয়ে দিতে পারে, নোট ছাপতে পারে, কিন্তু সেই দায় তারা নিতে চায় না। কেন?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top