আমরা কতখানি অকৃতজ্ঞ হতে পারি, তার উদাহরণ সমাজে ছড়ানোই থাকে। কিন্তু এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে, যঁারা আমাদের জন্য লড়ছেন প্রথম সারিতে থেকে, তঁাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতার অভাব। প্রথম দিকে কিছু খবর আসে, ডাক্তার ও নার্সরা আক্রান্ত হচ্ছেন। যে–‌হাসপাতালে কোভিড–‌এর চিকিৎসা হচ্ছে, সেই হাসপাতালের ডাক্তার (‌তিনি সরাসরি এক্ষেত্রে যুক্ত না থাকলেও)‌ কেন ঢুকবেন ফ্ল্যাটে, আবাসনের কিছু সদস্য আপত্তি করেন। ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে দঁাড়িয়ে থাকতে হয় ক্লান্ত চিকিৎসককে। পুলিশ গিয়ে আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেই ঢোকানোর ব্যাবস্থা করে। যঁারা অতিমারীর বিরুদ্ধে এত ঝঁুকি নিয়ে লড়ছেন, তঁাদের সম্মান দেওয়ার বদলে সমস্যায় ফেলা কতটা অমানবিক, সমাজের একাংশ বুঝতে চাইছিলেন না। শুধু নিজেদের ‘‌নিরাপদ’‌ থাকার কথা ভাবছিলেন। পুলিশের সক্রিয়তা এবং জনমতের চাপে পরিস্থিতি পাল্টেছে। রানাঘাটে নিজের বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান এক নার্স। ফিরে আসতে হয়। সরকার কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তো বটেই, নানা স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিক ও কর্মীরাও প্রাণপণ লড়ছেন। না হলে সামলানো যেত না। কোয়ারেন্টিন সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন চন্দননগরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায়। শিশুপুত্রকে কয়েকদিন কাছে রাখার জন্য দমদমের ফ্ল্যাটে ফেরেন। আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন। ভাল কথা, স্থানীয়রা তঁাকে দূরে সরিয়ে দেননি। কিন্তু, গোঘাটে ১ ব্লকের বিডিও সুরশ্রী পালের ক্ষেত্রে কী হল?‌ পঞ্চায়েত সমিতির দু’‌জন কর্মী আক্রান্ত হওয়ায়, সারা রাত জেগে স্যানিটাইজ করার তদারকি করেছেন। পরদিন সকালে বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাধা। বাড়িওয়ালা সরকারি কর্মী, স্ত্রী শিক্ষিকা। তবু এই অবস্থা। আমরা এত অকৃতজ্ঞ থাকব?‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top