সুসময়ের রং ফিকে হয়েছে, তবু এখনও বিজেপি–‌র একচ্ছত্র নেতা নরেন্দ্র মোদি। অমিত শাহও দলে ক্ষমতাশালী, কিন্তু সেটা মোদির ঘনিষ্ঠতম সহযোগী হিসেবে, আলাদা ভাবে নয়। মোদি চান, গোটা দেশ তাঁর পথে চলুক। গোটা দল তাঁর কথায় চলুক একশো ভাগ। ব্যাপারটা বোধহয় সেই জায়গায় নেই। প্রবীণ নেতাদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মার্গ দর্শক মণ্ডলী গড়েছেন আগেই, সেখানে বসিয়ে দিয়েছেন লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশি, যশবন্ত সিনহাদের। একটা বৈঠকও হয় না। বিজেপি–‌র একমাত্র ‘‌মার্গ দর্শক’‌ মোদি স্বয়ং। আদবানির মতো নেতার কথা ভাবুন। নিজের কেন্দ্র গান্ধীনগরেও বিধানসভা ভোটে প্রচারসভা করতে ডাকা হল না তাঁকে। মুখে কিছু বলছেন না, চিরকালই শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী, কিন্তু ভেতরে–‌ভেতরে ঘোর অসন্তুষ্ট। সুষমা স্বরাজের মতো অনেকে এখনও আদবানির অনুগামী। মুরলীমনোহর যোশিকে যখন বারাণসী কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, স্পষ্ট আপত্তি করেছিলেন। আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে তিনি মোদি সরকারের সঙ্গে একমত নন। আরেক ‘‌মার্গ দর্শক’‌ যশবন্ত সিনহা বসে নেই। নোটবন্দী, জিএসটি নিয়ে পাল্টা মত প্রচার করছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের কৃষক–‌বিরোধী কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্নায় বসেছেন। নানা বিষয়ে তাঁর সমালোচনা শুনে অরুণ জেটলির মন্তব্য, আশি বছর বয়সী এক ব্যক্তি চাকরি খুঁজছেন। কী শ্রদ্ধা!‌ কী সৌজন্য!‌ শত্রুঘ্ন সিনহা ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। পরের বিহার ভোটে লালুর পক্ষে দাঁড়ালে বিজেপি–‌র অস্বস্তি বাড়বেই। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা সুধীন্দ্র কুলকার্নি বললেন, রাহুল দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এত সমালোচনা ও ভিন্ন সুরের মুখে নরেন্দ্র মোদি নীরব। কড়া হতে পারছেন না। সম্ভবত জানেন, ঝুঁকি আছে, কারণ অনেক ক্ষোভই জমা হচ্ছে দলে, ভেতরে ভেতরে।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top