বাংলার জন্য, বাংলার ভালর জন্য কেউ ভাবলে, ভাল লাগে। যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কেউ ভাবেন, বলা বাহুল্য, বেশি ভাল লাগে। ২০১৬ সালে ডুয়ার্সে প্রচারে এসে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন চা–‌শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছিলেন, দু’‌মাসের মধ্যে সব চা–‌বাগান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে, কোনও সমস্যা থাকবে না। তিন বছর কেটে গেছে, প্রমোশন পেয়ে নির্মলা প্রথমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারপর অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার কিছু করেনি। যা করার, যথাসম্ভব করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স–‌এ এক ভিডিও ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দর কথা বলার পর, বললেন, বাংলার চটশিল্পের উন্নতি হলে সবদিক দিয়ে ভাল। বাংলা আবার শিল্পোদ্যোগে অগ্রণী হবে, এই বিশ্বাস প্রকাশ করে জানালেন, চটশিল্প হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় জায়গা। সমবেত শিল্পপতিরা কতটা আশ্বস্ত ও উৎসাহী হলেন বোঝা গেল না। তবে, চটশিল্পের ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে ভাবা দরকার। চটশিল্পের উন্নতি হলে বাংলার সুবিধা নতুন করে বলার কী আছে?‌ দেশের ৮০ শতাংশের বেশি চটকল বাংলায়। প্রশ্ন তিনটি, মাত্র। পাট চাষিদের জন্য কী করেছে কেন্দ্র?‌ তঁারা যাতে পণ্যের উপযুক্ত দাম পান, সেজন্য একটা পদক্ষেপ করতেও দেখা যায়নি। বিশেষত খাদ্যদ্রব্যের জন্য চটের বস্তার ব্যবহার উচিত, সবাই জানে। এক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বস্তা নিষিদ্ধ করা হয়নি কেন?‌ এই বিপদের দিনে হঠাৎ চটের বস্তার খোঁজ পড়েছে। চাওয়া হচ্ছে। সেজন্য তৈরি কি চটশিল্প?‌ নির্দিষ্ট কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?‌ আর, কাদের হাতে চটশিল্প?‌ তঁারা কি যথার্থ শিল্পোদ্যোগী। এঁরা অধিকাংশই বিজেপি–‌র ঘনিষ্ঠ। কঠোর হতে পারবে কেন্দ্র?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top