কোভিড সঙ্কটে প্রাণের ঝঁুকি নিয়ে যঁারা লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন, তঁাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। যদিও, কোনও কোনও যোদ্ধা উল্টে দুর্ব্যবহার পাচ্ছেন। এই সঙ্কটকালে ডাক্তারদের যুদ্ধ দেখার মতো। শুধু ডাক্তার নয়, নার্স, সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে কাজ করছেন, ভবিষ্যৎকালও মনে রাখবে। কৃতজ্ঞ থাকবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা, সরকারি হাসপাতালে তো বটেই, বেসরকারি হাসপাতালেও যথাসাধ্য চিকিৎসা করছেন। তঁারা ঘণ্টার হিসেব রাখছেন না। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগ থাকছে না। সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও, প্রবীণ ডাক্তাররা তদারকি করছেন, তরুণ ডাক্তাররা প্রাণপণ লড়ছেন। নার্সরা যে–‌সেবা দিচ্ছেন, তার দাম দেওয়া যাবে না। অমূল্য। কারও বাড়িতে বয়স্ক মা–‌বাবা, কারও শিশুসন্তান, তবু ঘরে বসে থাকছেন না। কেউ জেলায় বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেয়েছেন, কেউ শুনেছেন ‘‌হয় চাকরি ছাড়ুন নয়তো পাড়া ছাড়ুন’‌। মনোবল তবু ধরে রেখেছেন। দেখছি, পুলিশকর্মীরা একেবারে পথে নেমে, সামনে থেকে আমাদের জন্য লড়ছেন। অক্লান্ত সৈনিক। অনেকে আক্রান্ত, কেউ কেউ প্রয়াত। পুলিশ যে সমাজবন্ধু, এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হল। এবং প্রশাসন। যাঁরা শীর্ষ স্তরে, তঁারা দিনরাত এক করে লড়ছেন। বিশেষ করে ভাবতে হবে, জেলা ও ব্লক স্তরের প্রশাসকদের কথা। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভগীরথ মিশ্রর ‘‌আমলাশাহি’‌ পড়লে বুঝবেন, অফিসারদের কতরকম দায়িত্ব পালন করতে হয়। হুগলির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায় ডানকুনি কোয়ারেন্টিন সেন্টার চালিয়েছেন। তঁাকে হারিয়েছি। মুর্শিদাবাদের নওদায় বিডিও কৃষ্ণচন্দ্র দাস দুর্দান্ত লড়াই করেছেন। সংক্রমিত, প্রয়াত। ওঁরা প্রণম্য। 

জনপ্রিয়

Back To Top