স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনের আগের রাতে বেলুড় মঠে ঢুকে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী, কোনও রাজনীতিক বেলুড় মঠে রাত্রিবাস করেননি। সবাই জানেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকাটা মিশনের ঐতিহ্য। মোদি বললেন, ‘‌জন্মদিনের সকালে স্বামীজির ঘরে বসে ধ্যান করব!’ আবদার এবং তা মানতে হল কর্তৃপক্ষকে। প্রধানমন্ত্রীকে ‘না’ বলা মুশকিল। এরপর তো প্রধানমন্ত্রী চলে আসবেন চব্বিশে বৈশাখ, রাতে জোড়াসাঁকোতে থাকবেন এবং রবীন্দ্রনাথের জন্ম–‌ঘরে বসে রবীন্দ্ররচনা পাঠ করতে চাইবেন। কী আর, বড়জোর ওই ‘জনগণমন’। পঁচিশে বৈশাখ সকালে যেতে চাইবেন বোলপুরে, বিশ্বভারতীতে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ অজস্র কবিতা লিখেছেন। হয়তো একটা কবিতা ‘লিখবেন’! গান? চেষ্টা করতে পারেন। স্বামী বিবেকানন্দ গেরুয়া বসন পরতেন, কিন্তু আজকের গেরুয়া–‌ব্রিগেডের নীতি–‌আদর্শের সঙ্গে তাঁর এক ফোঁটা মিল ছিল না। হিন্দু ধর্মকে সহিষ্ণুতার প্রতীক বলেছেন। তথাকথিত গোরক্ষকদের কী বলেছিলেন, মোদি না–জানলে জেনে নিতে পারেন। সঙ্কীর্ণতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না সেই ‘‌নরেন’‌–‌এর। রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের অনেকে আগের দিনই চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছেন, যেন বেলুড় মঠে থাকার অনুমতি না দেওয়া হয়। থাকলেন, লুচি–‌বেগুনভাজা–‌আলুভাজা–‌পায়েস দিয়ে পরিমিত নৈশাহার করলেন। এবং স্বামীজির জন্মদিনে, সকালে রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন, বেলুড় মঠে!‌ ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে প্রকাশ্য প্রচার করলেন। অপবিত্র করলেন বিবেকানন্দর তৈরি রামকৃষ্ণ মিশনকে, বেলুড় মঠকে। রামকৃষ্ণদেব ইসলামের ধর্মাচরণ নিয়েও চর্চা করেছেন, জানেন মোদি?‌ বেঁচে থাকলে, তিনি, বিবেকানন্দ নিশ্চয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top