অসমে তিনটে এফআইআর হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে। অসম সরকার নাকি মামলাও শুরু করছে।‌ অপরাধ?‌ মমতা কি অসমে গিয়ে কাউকে আক্রমণ করেছেন?‌ অসমবাসীর পক্ষে ঘোর অপমানজনক কিছু করে ফেলেছেন?‌ না। এবং ‘‌হ্যাঁ’‌ হল এই, যে, উচিত কথা, দরকারি কথা বলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বহু আগে থেকেই ওই রাজ্যে বাঙালিদের কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রফুল্ল মহন্তরা সেই বাঙালি–‌বিরোধী জিগির তুলেই ক্ষমতায় এসেছিলেন। তার আগেও দু’‌বার ভয়ঙ্কর চেষ্টা হয়েছে। এবং ভোলা যাবে না, সেই ১৯৬১। ‘‌বঙ্গাল খেদা’‌ বীভৎস চেহারা নিয়ে হাজির হয়। মুখ্যমন্ত্রী তখন বিমলাপ্রসাদ চালিহা। ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ, পরে যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ওঁদের পরিকল্পনায় বঙ্গভাষীদের তাড়ানোর হিংস্র আন্দোলন সংগঠিত হয়। অনেক গুণ ছিল জওহরলাল নেহরুর, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতবর্ষকে সদর্থে আধুনিক করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু চালিহা–‌ফকরুদ্দিনের চক্রান্তকে ঠেকানোর চেষ্টা করেননি। মাথা উঁচু করে লড়াই করেছিলেন বরাক উপত্যকার বীর বাঙালিরা। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অধিকাংশ বাঙালি সাড়া দেননি আন্দোলনে, চালিহারা ভাগ করে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু বরাকই যথেষ্ট। গড়ে ওঠে ভাষা আন্দোলন। ১৯৬১ সালের ১৯ মে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেন ১১ বঙ্গসন্তান। একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক ঔজ্জ্বল্যের পাশে ১৯ মে নিয়ে হইচই কম, কিন্তু দিনটা অবিস্মরণীয়। আগে কিছুটা চাপা ছিল, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বাঙালি–‌বিরোধী চক্রান্তের সঙ্গে প্রকাশ্যেই জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বঙ্গভাষী মুসলিমদের। এনআরসি–‌র সুযোগ নিয়ে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ বঙ্গভাষীকে। বাদ–‌যাওয়াদের মধ্যে আছেন সাংসদ, বিধায়করা। আছেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য। সৌগত রায় তুললেন সংসদে, অধিকাংশ বিরোধী দল পাশে দাঁড়াল। মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দিয়েছেন বাঙালিদের ওপর অন্যায় হলে চুপ করে বসে থাকবেন না। এ জন্য মামলা?‌ হোক। লড়ে নেবেন তিনি, লড়ে নেবে বাঙালি।

জনপ্রিয়

Back To Top