আশ্চর্য নীরবতা!‌ নরেন্দ্র মোদিকে ‘‌বিশ্বগুরু’‌ তকমা দিতে পকেটের ডলার খসিয়ে যাঁরা দেশ–‌বিদেশের স্টেডিয়াম ভরিয়ে দেন, আজ সেই অনাবাসী ভারতীয়রা নিশ্চুপ। ব্যবসা–‌বাণিজ্যে চীনের কাছে টিকি বাঁধা বলেই বোধহয়, কেউ কেউ নির্ঘাত চীনা প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করেন যে!‌ ‘‌আপনি গন্ধে মম কস্তুরীমৃগসম’‌ আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ থেকে দেশান্তরে। পাকিস্তানকে আজ গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন, কাল গলায় জড়িয়ে ধরছেন কোনও রাষ্ট্রনেতাকে। হাতে তালি ঠুকে বলছেন ‘‌ঘর মেঁ ঘুসকর মারেঙ্গে’‌। রাষ্ট্রনেতার পদটিকে তিনি এই স্তরে নামিয়ে এনেছেন। একাধারে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— সব কিছু। সর্বশক্তিমান ‘‌পিএমও’‌ আর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অঙ্গুলিহেলনে চলবে দেশ!‌ প্রধানমন্ত্রীর চোটপাট তাঁকে ভোট এনে দিতে পারে, আইটি সেল এনে দিতে পারে লাখ লাখ ভক্ত, কিন্তু সত্যিকারের সঙ্কটে এসব কাজে লাগে না। রাষ্ট্রনেতা হয়ে উঠতে লাগে হৃদয়। প্রধানমন্ত্রীর আশকারায় সংখ্যালঘুদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তার ফল এই যে, মুসলিম দুনিয়ার কেউ আজ ভারতের হয়ে গলা ফাটাতে রাজি নয়। ‘‌রক্তচক্ষু’‌ দেখাতে গিয়ে পড়শিদের সমর্থন হারিয়েছেন, অকারণ ‘‌ক্যা, ক্যা’‌ করে বাংলাদেশকেও হারিয়েছেন। দেশের সঙ্কটে ফৌজের পাশে মানুষ দাঁড়াবে, জাতীয় কর্তব্য মনে করেই, কিন্তু ততটাই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য সরকারের দোষ–‌ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া। গণতন্ত্র অন্তত সে কথাই বলে। নরেন্দ্র মোদি বাগ্মিতায় হয়তো কাছাকাছি থাকবেন, কিন্তু তাঁর দলেরই নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী বা সুষমা স্বরাজের তুলনায় বিদেশনীতির প্রশ্নে কয়েক যোজন পিছিয়ে। ‘‌বিশ্বগুরু’‌ সাজতে গিয়ে লঘু–‌গুরু জ্ঞান লোপ পেলে এমনই পরিণতি হয়। চীনের শীর্ষনেতার সঙ্গে ৯ বার ছবি তুলিয়েও তাদের মন জয় করতে পারেননি। জওহরলাল নেহরু পেরেছিলেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top