গুজরাট ভোটের সূত্রে খবরের কাগজের এক কোণে আম আদমি পার্টির নামও উঠে এল। দিল্লিতে প্রথমবার সরকার গড়ার পরই অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর সহযোগী নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, আপ–‌কে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। বাংলা টেলিভিশনেও টুপি–‌পরা দুজন দলের প্রতিনিধি হিসেবে বসতে শুরু করেছিলেন। সে পর্ব চুকেছে। বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কেজরিওয়ালের প্রার্থী হতে চাওয়াকে প্রতীকীই ধরা গেল। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কয়েকটি রাজ্যে জোর দেওয়ার কথা ভাবা হয়। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, গুজরাট। যোগেন্দ্র যাদব দল ছাড়ায় হরিয়ানায় সুবিধা করা গেল না। পাঞ্জাবে বড় কিছু করে দেখানোর আশা করেছিলেন কেজরিওয়াল। ২০১৪ লোকসভা ভোটে জয়ী হন আপ–‌এর দুই প্রার্থী। এরপর বিধানসভা ভোটে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখা। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে শেষ করতে হলেও, কিছু আসন পেয়েছে আম আদমি পার্টি। হরিয়ানা ও পাঞ্জাব দিল্লির লাগোয়া রাজ্য। সেখানে ডানা মেলার চেষ্টা স্বাভাবিক। গুজরাট?‌ আপ সূত্রেই জানা গিয়েছিল, মোদি–‌রাজ্যেও যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া যাচ্ছে। ক্রমশ পরিষ্কার হল, না। তবু, সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে ৩০ কেন্দ্রে প্রার্থী। ২ জন জামানত বাঁচাতে পেরেছেন। বাকি ২৮ জনের মধ্যে অনেকেরই ভোট ৫০০–‌র নিচে। কিছু অভিজ্ঞতা তো হল। এবার কেজরিওয়াল নিজের জায়গাটা চিহ্নিত করুন। দিল্লিতে দেশের সব রাজ্য থেকে আসা ভোটার। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ডাক দিয়ে ফল পেয়েছেন। গত বিধানসভা ভোটে জয় ৭০–‌এর মধ্যে ৬৭ আসনে। যদি বিজেপি–‌কে ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আপ, ২০১৯ লোকসভা ভোটে সাতে সাত আসতে পারে, আপ–‌এর ভাগে পড়তে পারে ৫। দিল্লিতে কেজরিওয়ালকে পদে পদে বাধা দিচ্ছে কেন্দ্র। লড়ুন। পাশাপাশি দিল্লিবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করুন। পাশাপাশি সংসদে উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হোক। বেশি রাজ্যে পা ফেলতে গিয়ে আহত হওয়ার কোনও যুক্তি নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top