‘রাজ্য’, কিন্তু দিল্লিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। দেশের রাজধানী যেহেতু দিল্লি, ন্যূনতম ক্ষমতা দেওয়া চলবে না রাজ্যকে, এরকমই ভেবে রাখা হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা আছে, সেই বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতাও কম নেই। কংগ্রেস ও বিজেপি বহু বছর ক্ষমতা দখলে রেখেছে। কখনও বড় সমস্যা হয়নি। এই দুই বড় দলকে হারিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় আসতেই শুরু হল, জড়ো হল প্রবল সমস্যা। রাজ্যপাল নেই, দিল্লিতে উপরাজ্যপাল। তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, পুলিস কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। একেবারে বিকল্প রাজনীতির কথা বলে শাসন ক্ষমতায় এসেছেন কেজরিওয়াল। গত নির্বাচনে ৭০ আসনের মধ্যে ৬৭ পেয়েছে আপ। কংগ্রেস তো পারেইনি, ২৬ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রচারে নামিয়েও চূড়ান্ত ব্যর্থ বিজেপি। এই দলটাকে, বিশেষত এই মানুষটিকে হজম করা সম্ভব হল না। শুরু থেকেই উপরাজ্যপালকে বাগড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহার করল নরেন্দ্র মোদির সরকার। আমলাদের প্ররোচিত করা হল, যাতে সহযোগিতা না করেন।  আর সাম্প্রতিক ঘটনা তো অদ্ভুত। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এক বৈঠকে দুই আপ বিধায়ক নিগ্রহ করেছেন মুখ্যসচিবকে। যদি সত্যি হয়, গ্রেপ্তার করা ঠিক হয়েছে। তারপর?  আমলাদের উদ্যোগে কিছু সরকারি কর্মীর হাতে দুই মন্ত্রীকে নিগৃহীত হতে হল। আমলারা বলে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। এবং ৭০ জনের পুলিস বাহিনী হানা দিল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে!‌ তছনছ করা হল ঘর। একটি ঘর নাকি সন্দেহজনক, যেখানে রাজনৈতিক শলা–পরামর্শ করেন কেজরিওয়াল। পুলিসের প্রশ্ন, এই ঘরে সিসি টিভি নেই কেন?‌ রাখা বাধ্যতামূলক নাকি?‌ ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচইয়ের মধ্যে কেন্দ্রের এই ভয়ঙ্কর গণতন্ত্র–‌বিরোধী আচরণ উচিত প্রচার পেল না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top