আবদার জিনিসটা বেশ মজার। মেনে নিলে শেষ হয় না। বাড়তে থাকে। আবদার অন্তহীন। যে–‌বিষয়ে আসতে চাইছি, তা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের (‌কিছু স্কুল–‌কলেজেও)‌ ছাত্রছাত্রীদের আবদার। মা–‌বাবার কাছে আবদার, মামার বাড়িতে আবদার, সে চিরকালই ছিল। আছে, থাকবেও। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে–‌আসা সাম্প্রতিক দুটি আবদার মারাত্মক। অনার্স–‌এর ছাত্রছাত্রীদের পাস পেপার দুটোতেও উত্তীর্ণ হতে হবে, নিয়ম চালু হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। পাস পেপারে ফেল, পরে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া যাবে, তা নয়। অনার্স একটি বিষয়ে, কিন্তু শুধু ওই একটা বিষয় পড়েই কেউ স্নাতক হয়ে যাবে, হতে পারে না। সেজন্যই তো পাশাপাশি পাস পেপার রাখার ব্যবস্থা। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গিয়ে বিশেষ একটা বিষয়েই পড়তে হবে, আরও জেনে উপযুক্ত হতে হবে, সে তো ঠিকই আছে। কিন্তু স্নাতক স্তরে অন্য বিষয়ও যেহেতু থাকা উচিত, এবং আছে, পাশ নম্বরটুকুও পাবে না কেন ছাত্রছাত্রীরা?‌ একটু পড়াশোনা করবে না কেন? এবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয় আর নয়। দ্বিতীয় আবদার, ক্লাস না–‌করেও পরীক্ষা দেব!‌ ৫৫ শতাংশ হাজিরা দিলেই ১০০ টাকা ফাইন দিয়ে পরীক্ষায় বসা যায়। বহু ছাত্রছাত্রী তার চেয়েও কম ক্লাস করেছে, কেউ কেউ ১০ শতাংশের নিচে।‌ দাবি, পরীক্ষা দেব!‌ শিক্ষামন্ত্রী সব ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছেন। এবার কলকাতার উপাচার্য স্পষ্ট বললেন, ন্যূনতম হাজিরা ছাড়া পরীক্ষা দেওয়া যাবে না, নিয়ম আছে, এবং তা যখন আছেই, মানতে হবে। কঠিন অসুখে ও বন্যায় আক্রান্ত ৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবু অবস্থান, অনশন চলছিল। আচ্ছা, এবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হল— বললেও একই প্রশ্ন সামনের বার আসবে। কোথাও একটা শেষ আছে। এবং কোথাও একটা শুরু আছে। শুরুটা হল।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top