তিন মাসে তিন শতাধিক জনসভা করার কথা বলছেন রাজ্য বিজেপি–‌র নেতারা। অধিকাংশ সভায় আসবেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথরা। বাংলায় ওঁদের কে আছেন, যিনি সভায় কয়েক হাজার লোক টেনে আনবেন?‌ সভা হবে। বিস্তর খরচ হবে। বিশ হাজার লোক হলে দু লক্ষ হয়েছে বলা হবে। বিষাক্ত প্রচার ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় নেতারা আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। আর একটা ব্যাপারও হবে। কিছু না হলেও তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হওয়ার গল্প বলবেন চিৎকার করে। সম্ভবত তাতে ভোটের পেট ভরবে না কোনও কেন্দ্রে। কিন্তু অর্থ, বিষ, অপপ্রচার চলবে। সভা করুন। মোদি–‌শাহ ও অন্য মহারথীদের ডেকে আনুন। কিন্তু, আমরা চিন্তিত বিজেপি–‌র সভায় আসা শ্রোতাদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে যে গুণধররা সভা থেকে উৎসাহ সঞ্চয় করে বিষ ছড়াবেন, তাঁদের অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার জন্য সচেতন রাজ্যবাসী প্রস্তুত। দুশ্চিন্তা অন্য কারণে। সাধারণ শ্রোতারা বাংলার মানুষ। প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও লোক আনা হচ্ছে অবশ্য। তাঁরাও তো দেশের মানুষ। চিন্তিত হচ্ছি শ্রোতাদের নিরাপত্তা নিয়ে। মোদি মহাশয়ের দুটি জনসভার কথা বলা যাক। মেদিনীপুরে যখন সভা করছেন, গলা ফাটাচ্ছেন, হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল শামিয়ানা। ভারপ্রাপ্ত নেতা দোষ দিলেন ডেকরেটর সংস্থাকে। সেই সংস্থা জানিয়ে দিল— তাদের দোষ নেই। ঠাকুরনগরে মতুয়া সমাবেশে বাজেটের ঢাক পিটিয়ে চলে গেলেন মোদি, মতুয়াদের জন্য কোনও সদর্থক বার্তা দিতে পারলেন না। দেখা গেল, শ্রোতাদের সুরক্ষিত রাখার কোনও ব্যবস্থা নেই। এসপিজি প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে গেল। কিন্তু আহত বহু মানুষ। মহিলাদের অসহায় আর্তনাদ। চেয়ার ছোঁড়ার ছবিও দেখা গেল। রাজ্য বিজেপি–‌র নেতারা বিষাক্ত প্রচারে মোদি–‌শাহর উপযুক্ত চ্যালা, কিন্তু বড় সভা সংগঠিত করতে শেখেননি। তৃণমূল এত বড় বড় সভা করে, বামফ্রন্টও অনেক করেছে, শ্রোতারা সুস্থ, নিরাপদ থেকেছেন। বিজেপি নেতারা একটু শিখে নিলে, আমাদের দুশ্চিন্তা কমবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top