জাহাজে শুধু একটাই পণ্য। মিথ্যা। জাহাজের নাম অমিত শাহ। ২২ জানুয়ারি মালদায় জনসভা করে গেলেন।  মালদায় কপ্টার নামতে দিচ্ছেই না রাজ্য সরকার, এই মিথ্যা প্রচার শুরু হয়েছিল দু’‌দিন আগে থেকে। সেই মিথ্যার বেলুন চুপসে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মালদার সভায় একশো মিথ্যা বলতে গিয়ে একটা বড় সত্য অবশ্য প্রকাশ করে ফেলেছেন বিজেপি সভাপতি। অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও সাম্প্রদায়িক বিভাজনই হতে চলেছে ওঁদের নির্বাচনী প্রচারের প্রধান অস্ত্র। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আদর্শ যেন ওঁরাই বহন করছেন, বোঝাতে চাইলেন তিনি। যিনি বিশ্বভ্রাতৃত্বের কথা বলেছেন, যিনি মানুষে–‌মানুষে ভেদের বিরুদ্ধে সারা জীবন জাগ্রত থেকেছেন, সেই রবীন্দ্রনাথের নাম অমিতবাবুর মুখে শুনলে ধাক্কা খেতেই হয়। কবি বেঁচে থাকলে, মানহানির মামলা করতেন। স্বামী বিবেকানন্দ কখনও সাম্প্রদায়িক চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন না। তিনি যতটা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, তার চেয়েও অনেক বেশি সমাজ সংস্কারক। সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও নিষ্পেষিত মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁকে কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি। তিনি মন্দির গড়ায়, ধর্মের নামে হানাহানিতে, আচার–‌অনুষ্ঠানের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেননি। ‘‌জীবে প্রেম করে যেই জন/‌সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’‌ এবং নেতাজি। যাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল, যিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, যিনি ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে আপসহীন, তাঁর নাম অমিতবাবুর মুখে। হায়। তথ্য নিয়েও মিথ্যাচার। ১২৯টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নাকি রাজ্যবাসী পাচ্ছেন না রাজ্য সরকারের বাধায়। উল্টো। বহু প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধই করে দিয়েছে কেন্দ্র। বললেন, ব্রিগেডে নাকি একবারও ‘‌জয়হিন্দ’‌ বা ‘‌বন্দে মাতরম’‌ শোনা যায়নি। কী মিথ্যুক। মমতা একাধিকবার উচ্চারণ করেছেন ‘‌জয় হিন্দ’‌, ‘‌বন্দে মাতরম’‌। মিথ্যার জাহাজ বাংলার সচেতন চড়ায় আটকে যাবে।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top