পাহাড়ে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে স্থির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বারবার গিয়েছেন। পাহাড় আলাদা নয়, রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বোঝাতে চেষ্টার ফাঁক রাখেননি। উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেষ্টায় ফল হচ্ছিল। অনেক শিল্পোদ্যোগী লগ্নি করার কথা বলে আসেন দার্জিলিঙে শিল্প সম্মেলনে। শিল্প, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন প্রকল্প। সহ্য হল না বিমল গুরুংদের। গুন্ডামি শুরু হল কখন?‌ যা কখনও হত না, মন্ত্রিসভার বৈঠক দার্জিলিঙে হয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে। পাহাড় তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, পাহাড় কীভাবে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, দেখাতে চেয়েছেন মমতা। মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিন ভয়ঙ্কর গুন্ডামি শুরু করল গুরুং–বাহিনী। কেন?‌ এখন আর ব্যাপারটা অজানা নয় কারও। বিপুল পরিমাণ অর্থ জিটিএ–কে বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। খবর আসছিল, ব্যাপক নয়ছয় হচ্ছে।‌ জিটিএ চেয়ারম্যানকে বলেই শুরু হয়েছিল অডিট। বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা সবচেয়ে বেশি জানেন, ওঁরাই তো নয়ছয় করার পেছনে, অনেক গরমিল ধরা পড়তে বাধ্য। নজর ঘোরানো দরকার ছিল। এবং, রাজনৈতিক মদত। বিজেপি–র। মমতা রাজ্যসভায় নিয়ে গিয়েছেন পাহাড়ের শান্তা ছেত্রিকে। বিধানসভা ও পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছেন, পাহাড়ের ভূমিপুত্রদের। লোকসভা ভোটে কাদের প্রার্থী করেছে বিজেপি এবং জিতিয়ে এনেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থনে?‌ যশবন্ত সিং, সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, রাজু বিস্ত। প্রত্যেকে বহিরাগত। বিপুল আর্থিক মদত পেয়েছে গুরুং–গুন্ডারা। টয়ট্রেন স্টেশনে ও সরকারি ভবনে আগুন, যথেচ্ছ হাঙ্গামা, মৃত্যু। যথারীতি মামলা। বিমল, রোশন বুঝলেন গ্রেপ্তারি এড়ানো যাবে না। পালালেন। শোনা গেল, নেপালে। এরপর, ছবি, দিল্লিতে বিজেপি সাংসদের সঙ্গে। এবং তারপর?‌ নিরুদ্দেশ। অবশেষে দেখা মিলেছে ওদের। কোথায়?‌ বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার ছেলের বিয়েতে। নিশ্চিন্ত আশ্রয়!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top