পরামর্শ এখন মা–‌বাবাকেই বেশি দেওয়া হয়। সন্তানকে কীভাবে বড় করে তুলতে হবে, কীরকম ব্যবহার ওদের সঙ্গে করতে হবে, কী কী একেবারেই করা যাবে না, পরামর্শের শেষ নেই। কাগজে ও চ্যানেলে চোখ–‌কান রাখলেই একশো পরামর্শ পাওয়া যায়। অভিভাবকরা হয়তো ভাবতে থাকেন, ইস, আমরা কিছুই জানতাম না!‌ এবং একটা কথা ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন, ভালবাসার সঙ্গে একটু শাসনেরও দায়িত্ব কি ত্যাগ করতে হবে?‌ সন্তান যা চাইছে, তা–‌ই দিতে হবে?‌ লেখাপড়ায় মন নেই, খারাপ দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতা, তবু মিষ্টি কথা বলে যেতে হবে?‌‌ নবম শ্রেণির এক ছাত্র চাইল স্মার্টফোন। মা বললেন, বাবা বোঝালেন, এখনই স্মার্টফোন কিনে দেওয়া কঠিন, তাছাড়া দরকারই বা কী। অভিমান, অভিমান। আত্মঘাতী হল ছাত্র। শোকাহত মা–‌বাবা গভীর শোকের মধ্যেই শুনতে থাকলেন, কী করা উচিত ছিল। সামনে পরীক্ষা। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রাত এগারোটাতেও পাড়ার জলসা উপভোগ করছে, বাড়ি ফিরেও মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি। মা বকলেন। অপরাধ। অপরাধ। বকা চলবে না। মেয়েটি আত্মহত্যা করল। এবার বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান শোনার পালা মায়ের। দমদমে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের আবদার, মোটরবাইক কিনে দিতে হবে, বাবার মোটরবাইক চড়তে দিতে তো হবেই। বাবা বারণ করেন। সাবালক হয়নি, লাইসেন্স পাবে না, মোটরবাইক কেন এখন?‌ ‘‌তেজি’‌ কিশোর বছর–‌শেষের রাতে বাবার বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ল বন্ধুদের নিয়ে। বাবা কড়া বকুনি দিলেন। কিশোর, দশম শ্রেণি, প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের আশ্চর্য পথ বেছে নিল। তিন তলার কার্নিশে উঠে হুমকি, আত্মহত্যা করব। দমকল কর্মীরা নামালেন ৬ ঘণ্টা পর। প্রতিশ্রুতি, বাইক পাবে। কয়েক ঘণ্টায় বন্ধুদের অনেক ফোন করল নিজের মোবাইলে। জেনে নিল, টিভি–‌তে দেখাচ্ছে তো?‌ জানতে ইচ্ছে হয়, ‘‌অপরাধী’‌ বাবা শেষ পর্যন্ত কী করছেন?‌ নাবালককে বাইক কিনে দিচ্ছেন?‌ চাইলেই পাওয়া যাবে, এই তাহলে দাঁড়াল?‌

জনপ্রিয়

Back To Top