ভারত–‌চীন যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬২ সালে, ৫৮ বছর আগে। সেটা অবশ্যই ধাক্কা। নেহরু–চৌ এন লাই ঘনিষ্ঠতা, ভারত–চীনি ভাই ভাই থেকে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ। বিপদে পড়েছিলেন কমিউনিস্ট নেতারা। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাধারণ কর্মীরাও রাস্তাঘাটে কুকথার লক্ষ্য হচ্ছিলেন। তারপর, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তাতে বড় অবদান ১৯৭৭ সালে বিদেশমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর। ১৯৭৫ সালে খুচরো হামলায় ৪ জওয়ানের মৃত্যু। তবু, সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। এতদিন পর, গালোয়ানে সঙ্ঘর্ষে শহিদ ১০ জওয়ান। ও–পাশেও মৃত্যু হয়েছে। ২০ জওয়ানের মৃত্যুর পর বিবৃতি দিতে ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে প্রধানমন্ত্রীর। তঁার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় চীনের নাম নেই। বড় শক্তির সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া কঠিন। পাকিস্তানকে ‘‌ঘরে ঢুকে মেরে’‌ আসা সহজ। গালোয়ানের ঘটনার পর উগ্র জাতীয়তাবাদী হাওয়া তোলার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাতেই কিছু বিচ্ছিন্ন, দেশের কিছু শহরেও দাবি, চীনা পণ্য বয়কট করতে হবে। সন্দেহ নেই, ভারতের বাজার চীনের প্রয়োজন। অর্থনৈতিক অবরোধের পথে গেলে, ওদের ক্ষতি। চাপ থাকা ভাল। কিন্তু, সত্যিই কি এই মুহূর্তে চীনা পণ্য বয়কট করা সম্ভব?‌ মোবাইল ফোন, অন্যান্য প্রযুক্তি, নিত্যব্যবহৃত সামগ্রীও সস্তায় দেয় চীন। রাতারাতি স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব?‌ সীমান্তে যুদ্ধের বাদ্য বাজলেই কিছু প্রাক্তন সেনা অফিসার উগ্র কথা শুরু করেন। মনে হয়, কঁাচা চিবিয়ে খাবেন। একজন বললেন, ‘‌‌আমি ইয়েলো রেস–কে ঘৃণা করি।’‌ মানে? জাপান, কোরিয়াকেও বয়কট?‌ ভারতের অনেকের মুখ মঙ্গোলয়েড ধাঁচের। তঁারা অপমানিত হন। বলা হয়— ‘‌চিঙ্কি’‌। জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরি বললেন, চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের মতো আচরণ করা যাবে না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুস্থতার স্বর।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top