রাজনীতিতে বিনয় কাজ দেয়, বড়াই–‌অহঙ্কার ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। নরেন্দ্র মোদি ৫৬ ইঞ্চি নিয়ে গুমোর করতেন, আজ তঁার সরকারের প্রতিটি ব্যর্থতা নিয়ে রসিকতায় সেই অনুসঙ্গ উঠে আসে। মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহানের সরকারে নিজের ১৪ অনুগামীকে মন্ত্রী করে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মন্তব্য, ‘‌টাইগার অভি জিন্দা হ্যায়!‌’‌ বাঘ না বিড়াল, প্রমাণ হয়ে যাবে আর ছ’‌মাসের মধ্যেই। যে ২২ কংগ্রেসি বিজেপি–‌তে যোগ দিয়ে কমল নাথের সরকার ফেলেছেন, তাঁদের উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। অবশ্যই যদি বিজেপি তঁাদের সকলকে টিকিট দেয়। টিকিট দিলেও বিজেপি–‌র অন্দরেই অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। জ্যোতিরাদিত্যের অনুগামীর সকলেই বিজেপি–‌র টিকিটে জিতে এলে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, নরেন্দ্র তোমর, নরোত্তম মিশ্ররা মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন। তাছাড়া পরিবারতন্ত্রের প্রতিভূ জ্যোতিরাদিত্য সঙ্ঘের শিবিরে আদৌ গ্রহণযোগ্য নন। মধ্যপ্রদেশ দখল করতে মোদি–‌শাহ তঁাকে স্রেফ দাবার বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাজ্যে ১৪ জন মন্ত্রী দেওয়া কিংবা কেন্দ্রে বড় দপ্তর দিলেও সিন্ধিয়া বিজেপি–‌তে সার্কাসের বাঘ হয়েই থাকবেন। রাজনাথ সিং, নীতিন গাডকারিদের দেখে সিন্ধিয়ার এটুকু আন্দাজ করা উচিত। স্থানীয় বিজেপি নেতারা সাহায্য না করলে সিন্ধিয়া উপনির্বাচনে ক’‌জন অনুগামীকে একার জোরে জেতাতে পারবেন?‌ চম্বলের বাইরে তঁাকে মানে কে?‌ গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে কংগ্রেসে হয়তো বাঘ ছিলেন, বিজেপি–‌তে তা হওয়ার নয়। ইতিমধ্যেই উমা ভারতী মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। মন্ত্রী হতে না পেরে বিজেপি নেতারা কেউ গলা জলে দঁাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ তঁাবু খাটিয়ে বসেছেন, কেউ ধর্না দিচ্ছেন। মোদি সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে ‘‌বিস্তারবাদ’‌ নামে একটি শব্দাস্ত্র প্রয়োগ করেছেন। আগ্রাসন বা সাম্রাজ্যবাদেরই হিন্দি প্রতিশব্দ। তবে রাজনৈতিক যে আগ্রাসন তিনি দেখালেন তার তুলনা নেই গণতন্ত্রে। কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়তে গিয়ে কংগ্রেসি–‌বিজেপি গড়েছেন। ফল ব্যুমেরাং হতে বাধ্য।

জনপ্রিয়

Back To Top