টিকটক–‌স‌হ ৫৯টি অ্যাপ–‌কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হয়তো এমন সিদ্ধান্ত আরও হবে। দেশকে যথার্থই ‘‌আত্মনির্ভর’‌ করে তোলার জন্য যদি করতে হয়, যদি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, বলার কিছু নেই। সমস্যা হল, বোঝা যাচ্ছে না, অনেক কিছু‌ই মেলানো যাচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদি–‌অমিত শাহর রাজ্য গুজরাটে বিজেপি–‌র‌ সরকার। দেড় দশক ধরে কয়েক হাজার কোটির চীনা পুঁজি ঢুকেছে। এখনও নতুন লগ্নির ঘোষণা ৪০ হাজার কোটি টাকার। ভারত যদি চীনের আর্থিক প্রভাব কমাতে চায়, তাহলে গুজরাটে এত চীনা লগ্নি কেন?‌ সাম্প্রতিক ঘোষণা থেকেও সরে আসা হয়নি কেন?‌ সংশয় থাকা স্বাভাবিক, মোদি সরকার কি সত্যিই ‘‌আত্মনির্ভর’‌ হতে চায়?‌ উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচার সামনে, ভেতরে সেই সমঝোতা, মনে হবে না?‌ এই প্রশ্নটাও বারবার ঘুরেফিরে আসছে, হামলার পরেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে একবারও ‘‌চীন’‌–‌এর নামটা শোনা গেল না কেন?‌ গরম–‌গরম কথা বলা হবে, কিন্তু শত্রুর নাম উচ্চারিত হবে না কেন?‌ বিস্ময় জাগে না?‌ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৬ বার, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৫ বার চীন সফরে গেছেন নরেন্দ্র মোদি। শি জিন পিং–‌এর সঙ্গে তঁার  নিবিড় সখ্যের কথা সরকারি ভাবেই প্রচারিত। সবরমতী আশ্রমের সামনে সেই ঝুলনদোলা, লেক–‌এ ঘুরে উহান স্পিরিট–‌এর কথা বলা। নানা জায়গায়, দুই দেশের বাইরেও অনেক বৈঠক। কম করে ২৭ বার। তারপরও চীনের আচরণ কি কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ নয়?‌ চীনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী নয়, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে কথা বলতে হল কেন?‌ আস্থা নেই জয়শঙ্করের ওপর?‌ সরকারই জানাল, চীন কিছুটা সরেছে, ভারতও।‌ মানে কী?‌ ভারত কি সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিল?‌ মানি না। তবু বলা হল কেন?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top