গেরুয়া রঙটাই খারাপ, তা তো নয়। স্বামী বিবেকানন্দ নিশ্চয় কোনও হামলা সংগঠিত করেননি। দেশের সব মানুষকে সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত করতে চেয়েছেন। গেরুয়া হামলা মানে আরএসএস ও বিজেপি–‌র হামলা। সংখ্যালঘু নিধন, দলিত পীড়ন, সে তো হচ্ছেই। হামলা আরও নানা দিকে। উদাহরণ, মুঘলসরাই স্টেশনের নাম বদল। ‘‌মুঘল’‌ শব্দটা বোধহয় পছন্দ হচ্ছে না ওদের। এরপর কি রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘‌মুঘল গার্ডেন’‌–‌এর নাম পাল্টে ‘‌গোলওয়ারকার উদ্যান’‌ করা হবে?‌ ওরা সব পারে। বিখ্যাত স্টেশন মুঘলসরাই। কত ইতিহাস জড়িয়ে। আমাদের যাতায়াতের রেল–‌স্মৃতিতেও উজ্জ্বল। বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার আইকন তৈরি করতে চাইছে। ওদের ঝুলিতে নেই। কোনও স্টেশন বা বিমানবন্দর বা ভবন বা প্রকল্প বরেণ্যদের নামে হয়। এখানে উল্টো। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নাম দেশের অল্প মানুষই জানেন। শতাংশের হিসেবে আনা কঠিন। ঠিক আছে, সঙ্ঘ–‌নায়কদের নাম দাও, তবেই খ্যাতি–‌পরিচিতি হবে। ‘‌মুঘলসরাই’‌ স্টেশনে যখন ট্রেন দাঁড়াবে, কোনও কিশোর মা–‌বাবার কাছে জানতে চাইবে, দীনদয়াল উপাধ্যায় কে গো?‌ মা–‌বাবা বলে দেবেন, ‘‌জানি না’‌!‌ নতুন নামকরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি আশা করতে পারেন, একদিন তাঁর নামেও ভবন কিছু হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে কে উপস্থিত থাকবেন?‌ নরেন্দ্র মোদি সময় পাচ্ছেন না। তাহলে কে, রেলমন্ত্রী?‌ না। তিনি চান্স পেলেন না। প্রধান অতিথি অমিত শাহ। কোনও সরকারি পদ নেই, থাকবেন বিজেপি সভাপতি হিসেবে!‌ উত্তরপ্রদেশেরই শাহজাহানপুরে (‌নাম এখনও পাল্টায়নি)‌ গান্ধী মূর্তির রঙ পাল্টে দিয়েছে উপযুক্ত বিজেপি কর্মীরা। লাঠির রঙ ছিল কালো, বাকিটা ধূসর। গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া হয়েছে আপাদমস্তক। শুধু চশমাটা বাদ।‌ উত্তরপ্রদেশে বহু সরকারি ভবনে গেরুয়া রঙ লাগানো হয়েছে। দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন তো বটেই, রাজ্যের আরও কিছু স্টেশনে লাগছে গেরুয়া রঙ। দিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ভবনের সামনে রামকিঙ্করের যক্ষ মূর্তির জন্যও কি আসছে গেরুয়া?‌ তাজ মহল?‌ নামবদলের সঙ্গেই রঙটা গেরুয়া করা যায় না?‌ হায় শ্বেতপাথর!‌ হায় ভারত!‌
‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top