আইএএস হওয়া অবশ্যই কঠিন। সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যাঁরা সেরা, তাঁরাই দেশের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সুযোগ পান। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভাল ফল করেও, কেউ কেউ আইএএস–‌কে (‌বা আইপিএস)‌ বেছে নেন। সমাজের ও মানুষের জন্য কাজ করার যত সুযোগ পান শীর্ষ প্রশাসকরা, তা অন্য পেশায় থেকে সম্ভব নয়। আছে সামাজিক সম্মান, গুরুদায়িত্বও। এরকম দু–‌একটা দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যেখানে বিদেশে প্রচুর আর্থিক সুবিধার জন্য কেউ কেউ চলে যান। অর্থই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আমরা যে–‌দুজনের কথা বলছি, তাঁরা অর্থের টানে বিদেশে চলে যাননি। শুধু একটা ভাল চাকরি পাওয়ার কথা ভেবে তাঁরা ইন্ডিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস–‌এ আসেননি। সম্মানজনক পেশা চেয়েছেন, দেশের জন্য কাজও করতে চেয়েছেন। ২০০৯ সালে আইএএস–‌এ একেবারে প্রথম স্থান অধিকার করেন কাশ্মীরের শাহ ফয়জল। কাশ্মীর থেকে আইএএস হওয়া কঠিন, শাহ ফয়জল শীর্ষে। রাজ্য সরকারে যুক্ত ছিলেন নানা বিভাগে, শেষদিকে শিক্ষায়। অসাধারণ কাজ করছিলেন, সকলে একমত ছিলেন। কিন্তু তরুণ প্রশাসকের অভিজ্ঞতা, পদে পদে বাধা পেয়েছেন। একের পর এক চিঠি লিখেছেন, প্রতিকার হয়নি। হতাশ শাহ ফয়জল ইস্তফা দেন। বলেন, যদি কাজ–‌ই না করতে পারি, পদে থেকে কী লাভ?‌ পরে তিনি রাজনৈতিক দল গড়েন। আসেন শেহলা রশিদ। আপাদমস্তক ভারতপ্রেমী তরুণকে গ্রেপ্তার করা হল!‌ কান্নন গোপীনাথন। কেরলের যুবক। দাদরা ও নগর হাভেলি এবং মিজোরামে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। কেরলে যখন ভয়ঙ্কর বন্যা, পরিচয় না দিয়েই হাতে–‌হাতে ত্রাণের কাজ করেছেন। তিনিও ছাড়লেন। বলছেন, যে–‌দেশের প্রশাসনে কাজ করি, সেই দেশে যদি গণতন্ত্রই না থাকে, কীভাবে কাজ করব?‌ এঁদের কি পরিত্যাজ্য মনে করছে সরকার?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top