নোটা। নান অফ দি অ্যাবাভ। যতজন প্রার্থীর নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কাউকেই ভোট নয়। গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে এবার নোটার পক্ষে বোতাম টিপেছেন ১.‌৩৯ শতাংশ ভোটার। মোট সাড়ে পাঁচ লক্ষ জন। ভাবুন, গুজরাটে আধ শতাংশ ভোটের হেরফেরে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে বহু আসনে। দেখা যাচ্ছে, নোটায় বোতাম–‌টেপা মানুষরা কোনও পক্ষে গেলে অন্তত ৩০ আসনে ফল ওলটপালট হয়ে যেত। গুজরাটে লড়াইয়ে ছিল প্রধানত দুই পক্ষ। এদিকে অথবা ওদিকে, বিজেপি বা কংগ্রেস, এই প্রশ্নে মত দেওয়ার জন্যই বুথে হাজির দেওয়ার কথা ভোটদাতাদের। সাড়ে ৫ লক্ষ জন কেন কাউকে সমর্থন করলেন না?‌ প্রাথমিক ধারণা হওয়ার কথা, ওঁরা বিজেপি–‌কে ক্ষমতায় রাখার পক্ষে নন, কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনার পক্ষেও নন। নির্বাচনী যুদ্ধে শারদ পাওয়ারের এনসিপি, মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও ছিল। ছিলেন নির্দল অনেকে, কেউ বিজেপি–‌র বিক্ষুব্ধ কর্মী, কেউ বিক্ষুব্ধ কংগ্রেসি। ১২ ভোট পাওয়া নির্দল প্রার্থীও ছিলেন। ব্যাপারটা কি এরকম, যে, বিজেপি নয়, কংগ্রেস নয়, এনসিপি–‌বসপা–‌আপ নয়, অন্য কোনও দলের সমর্থক ওই সাড়ে ৫ লক্ষ মানুষ?‌ নাকি, ওঁরা ভেবেচিন্তে জানালেন, যে, কোনও প্রার্থীকেই ব্যক্তিগতভাবে যোগ্য মনে করছেন না?‌ সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোট হল অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্যকে বেছে নেওয়া। এই বেছে নেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা অস্বাভাবিক। নোটা চালু করা হয়েছে, অনেক বছরের আন্দোলন থেকে, চাই না–‌ভোটের অধিকার। কষ্ট করে বুথে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সেই অধিকার প্রয়োগ করায় উৎসাহী সাড়ে ৫ লক্ষ গুজরাটবাসী?‌ ওঁদের অনাস্থা কি সংসদীয় গণতন্ত্রেই?‌ রাজনৈতিক নেতারা ভেবে দেখবেন, আশা করি।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top