ন্যূসমূ। মানে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। ওই টাকাটা হাতে পেলে চাষির পেট ভরে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানো যায়, বিয়ে–‌থা দেওয়া যায়। সমস্যা এই যে, সরকার ঢাক–‌ঢোল পিটিয়ে ‘‌ন্যূসমূ’‌ ঘোষণা করলেও চাষি ওই দাম পাচ্ছেন না। এবছর ধানের সংগ্রহমূল্য ১৬৬৮ টাকা প্রতি কুইন্টল, চাষির হাত মুচড়ে ওই ধান ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় কিনে নিয়েছে দালালরা। সরকার তড়িঘড়ি বিল এনেছে, কিন্তু আইনি বয়ানে কিছুতেই লিখে দিচ্ছে না যে ‘‌ন্যূসমূ’‌–‌র নীচে ফসল কেনা যাবে না। অর্থাৎ লুটে নেওয়ার খোলাখুলি ছাড়পত্র। সরকার আর বিজেপি–‌র বক্তব্য, কৃষকরা ভুল বুঝছেন, তাঁদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। ভুল?‌ ভ্রান্তি?‌ সেটা হয়েছে মোদি সরকারের। তেতেপুড়ে ফসল ফলিয়ে ওঁরা চাষের খরচটুকুও তুলতে পারেননি, এতে ভ্রান্তির কী আছে?‌ দাম বেড়েছে সারের, ডিজেলের, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির। কৃষকরা প্রতিবাদ জানাতে আসছে বলে রাস্তা কেটে, কংক্রিটের ব্যারিকেড আর কাঁটাতার বসিয়ে দিতে হবে?‌ এ তো কৃষকদের সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধ!‌ আর একটা লড়াই লড়তে হচ্ছে অন্নদাতাদের। লড়াই বিষাক্ত প্রচারের সঙ্গে। ওরা খালিস্তানি!‌ ওরা বিরিয়ানি খায়!‌ ওরা দেশদ্রোহী!‌ এত নীচেও নামা যায়?‌ হ্যাঁ, এরা পারে। এই কৃষকদেরই ছেলেমেয়েরা আজ বিধানসভায়, সংসদে, ফৌজে, আমলার কুর্সিতে, খেলাধুলোয় দেশের হয়ে পদক জিতে আনছেন। সেই কৃষকদের সঙ্গে এই ব্যবহার!‌ বিদেশেও ঝড় তুলেছে চরম অমানবিকতা। সমস্যা একটাই, হিন্দু–‌মুসলমানের, হিন্দুস্তান–‌পাকিস্তানের ধুয়ো তুলে ওঁদের ভাগ করা যাচ্ছে না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top