ভারত থেকে অশোক লাভাসা বড় পদে গেলেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যাওয়া নিশ্চয় গর্বের। সংস্থা সুপারিশ চায় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছ থেকে। যোগ্যতা যাচাই করে নিয়োগ করা হয়। ভারত সরকার তঁাকে বেছেছে, নাম সুপারিশ করেছে, এডিবি কর্তারা তা গ্রহণ করেছেন, লাভাসার গর্বিত হওয়ার কথা। বাস্তবটা ঠিক সেরকম নয়। লাভাসা যদিও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, প্রথা মেনে করার কথাও নয়, চূড়ান্ত অবিচার করা হল। ভারতের তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের একজন হলেন লাভাসা। মাথা উঁচু ‌রাখা মানুষ। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বারবার নিয়ম ভাঙছিলেন বিজেপি নেতারা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আপত্তি করেছেন, নথিবদ্ধ করেছেন লাভাসা। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্যোগে, আরেকজনকে কাছে টেনে শাসক দল যা–‌খুশি করে গেছে। নিজের দ্বিমত স্পষ্ট করায়, দৃঢ়চেতা কমিশনার কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে না–‌যাওয়ায়, শুধু কোণঠাসা করা হয়নি, তঁার স্ত্রীর কর্মক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। ভাঙেননি, মচকাননি লাভাসা। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ নির্বাচনী বিধি অমান্য করে প্রচারের সময়সীমাকে অগ্রাহ্য করে জনসভা করেছেন। লাভাসা বারবার বলেছেন, শাসক দল বলে ছাড়া ঠিক নয়, ব্যবস্থা নিতে হবে। মানা হয়নি। তবু, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদে তঁার নাম সুপারিশ করল কেন?‌ ভাবতে পারেন, উদারতা। না। এক্ষেত্রে সিনিয়রিটি শিরোধার্য, কয়েক মাস পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার কথা অশোক লাভাসার। আটকে দেওয়া হল।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top