মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক রমেশ সাক্সেনা ভারি বুদ্ধিমান মানুষ। এমন মানুষ আরও প্রয়োজন। দিকে দিকে যত রমেশ সাক্সেনার উদয় হবে তত মঙ্গল। মধ্যপ্রদেশে আবহাওয়া অফিস কিছুদিন আগে জানিয়েছে, দুর্যোগ আসছে। জোর ঝড়বৃষ্টি চলবে ক’দিন। হবে শিলাবৃষ্টিও। কৃষকদের তো মাথায় হাত। এই অকালে ঝড়–‌জল, শিলা মানে তো খেতের ফসলের সর্বনাশ। রাজ্যের কৃষকদের এই উদ্বেগ জানাজানি হতেই এগিয়ে এলেন সাক্সেনাজি। তিনি উপদেশ দিলেন, দুশ্চিন্তার কারণ নেই মোটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় আছে। পাঠ করতে হবে হনুমান চালিশা। দিনে এক ঘণ্টা করে। টানা পঁাচদিন। এতে সমস্যা মিটবেই। সত্যি মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা এই ‘‌সুপরামর্শ’‌ মেনে নিয়েছিলেন কি না জানা যায়নি। জানার প্রয়োজনও নেই। সাক্সেনাজির এই বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ সামান্য ঘটনা থেকে বুঝতে যাওয়া অবিবেচকের কাজ হবে। ওঁর উচিত এখনই নিজের দলের নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা। তাঁকেও পরামর্শ দেওয়া। দিনে ক’‌ঘণ্টা ধরে হনুমান চালিশা পাঠ করলে তিনি হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পাবেন, কতদিন হনুমান চালিশা পাঠ করলে সংসদে বিরোধীদের তুমুল আক্রমণ থেকে রেহাই মিলবে, কতবার হনুমান চালিশা পাঠ করলে দেশের ভেঙে–পড়া অর্থনীতি পোক্ত হবে, কোন সুরে হনুমান চালিশা পাঠে কৃষকরা ফসলের দাম পাবে, ‌কত জোরে হনুমান চালিশা পাঠ করলে গরিব মানুষের জন্য ঘোষণা করা অবাস্তব অসম্ভব প্রকল্পগুলি মানুষ বিশ্বাস করবে, হনুমান চালিশার কোন অধ্যায় পাঠ করলে মধ্যবিত্তর গালিগালাজ থেকে রক্ষা পাবেন? রমেশ সাক্সেনাজি যদি এই সুপরামর্শ তাঁর দল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে আর দেখতে হবে না। তিনি হবেন বিজেপি দলের চোখের মণি।

জনপ্রিয়

Back To Top