কলকাতায় অদ্ভুত দৃশ্য। পার্শ্বশিক্ষকদের অবস্থানে গিয়ে বক্তৃতা বাম ও কংগ্রেস নেতাদের। কী আশ্চর্য, কী আশ্চর্য, নিয়মিত গিয়ে ভাষণ দিয়ে আসছেন বিজেপি নেতারা। দিলীপবাবুদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তাদের মতো শিক্ষা–দরদি দল আর নেই। দেশের বিজেপি–শাসিত ১১ রাজ্যে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা আন্দোলন করেছেন। কোথাও বিহিত নয়। একটুও সমব্যথী নয় সরকার। উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সব স্তরের শিক্ষকরা যোগ্যতার তুলনায় বেশি পান। কমানোর উপায় নেই, কিন্তু বাড়ানোর প্রশ্ন উঠতে পারে না। যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। আন্দোলন ডাকার জন্য পুলিশের লাঠি। বাংলায় পার্শ্বশিক্ষকদের কথায় ফেরা যাক। আগের জমানায় নেওয়া হয়েছিল দশ হাজার। যখন নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন কি কয়েকবছর পর যথেষ্ট বেতন বাড়ানোর  কথা ছিল?‌ না তো!‌ পার্শ্বশিক্ষকরা অনেক স্কুলে গুরুদায়িত্ব পালন করেন। সে কথা মনে রেখে, তৃণমূল সরকার টাকা বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি তাঁদের পূর্ণ শিক্ষকের সমমর্যাদা দিতে হবে। নিয়োগের সময় সেটা কথা ছিল?‌ না। বাংলার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরুন। যথাসাধ্য করেছে রাজ্য, ভবিষ্যতে পারলে আরও করবে। দিলীপবাবুদের শিক্ষা–প্রেম নিয়ে অনেক কথা বলা যায়, আপাতত প্রতিবেশী রাজ্যের দিকে চোখ রাখি। বাম আমলে ত্রিপুরা সরকার ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করেছিল। তাঁরা কাজ শুরু করেন। করছেন। মামলা হয়েছিল। আদালত নিয়োগ বাতিল করে। সময় নিয়ে, বাম সরকারের ঘোষণা, ১০ হাজার নিয়োগ নতুনভাবে করা হবে। কেউ কাজ হারাবেন না। মামলা আছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে, প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি, সব শিক্ষকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হবে। বিজেপি জিতল। এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বললেন, কিছু করার নেই!‌ শিক্ষামন্ত্রী বললেন, বোঝা কেন বহন করব?‌ ডিগবাজি। দিলীপবাবুর কিছু বলার আছে?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top