পুজোর ছুটির মেজাজ পৌঁছে যেত ভূস্বর্গে। মাঝে কয়েক বছর ভাটা, তবে বন্ধ নয়। এবার পর্যটকশূন্য কাশ্মীর। পর্যটকরা (‌অধিকাংশই বাংলার মানুষ)‌ অন্য কোথাও। পর্যটনের ওপর অবশ্যই নির্ভরশীল ছিল কাশ্মীর। যখন ভিড় কমেছে, তখনও ৬০ শতাংশ ভর্তি, হোটেল এবং নানা ব্যবসার প্রতীক্ষিত মরশুম। হোটেল ফাঁকা, হাউসবোট চলছে না, পছন্দসই জিনিসপত্র কেনাকাটার প্রশ্ন উঠছে না। শুধু ঘোড়াচালক বেকারের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার। কেন্দ্রীয় সরকারের চালকরা, রাজ্যপাল থেকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতি!‌ জনশূন্য পথঘাট, পথে–‌বসা পর্যটন ব্যবসা, তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে না। ব্যবসার আর–‌একটা সূত্র— ফল। রোজ ৩ হাজার ট্রাক বেরোত ফল নিয়ে, রাজ্য এবং গোটা দেশের জন্য। গত কয়েকদিনে, দিনে গড়ে ১০০টাও নয়। ব্যবসায়ীরা বিপন্ন, কর্মহীন ফল–‌ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কর্মীরা। গত দু’‌তিন বছরে কাশ্মীরের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছিল রিয়েল কাশ্মীর ফুটবল দল। আই লিগে প্রথম তিনে শেষ করেছে। অসংখ্য ক্যাম্প, তাতে অল্পবয়সিরা ফুটবল শিখছে, আছে মেয়েরাও। কড়াকড়ির ফলে রিয়েল কাশ্মীরকে শিবির করতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে। জঙ্গিদলের কবলমুক্ত করার জন্য ফুটবলের ভূমিকা ক্রমশ বড় হয়ে উঠছিল উপত্যকায়। তছনছ করে দিয়ে কী লাভ হল ভারতের?‌ কী চাইছেন কর্তারা?‌ জিজ্ঞেস করলেই একটা জবাব— স্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে কাশ্মীর থেকে আইএএস–‌এ দুর্দান্ত ফল করেছেন এগারো জন। তাঁদের মধ্যে একজন, শাহ ফয়জল প্রথম হয়েছিলেন, ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক দল করেছেন, এবং সেই ‘‌অপরাধে’‌ বন্দি!‌ স্কুল–‌কলেজ খোলা, কিন্তু ছাত্রছাত্রী বিরল। নেই। সেনা–‌বুটের আওয়াজে ও ভয়ের পরিবেশে অভিভাবকরা ভরসা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি আর একটা তথ্য পাওয়া গেল। গত দেড় মাসে নিখোঁজ কিশোরের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। স্বাভাবিক!‌     ‌

জনপ্রিয়

Back To Top