প্রতি বছরেই কথা ওঠে, উচ্চমাধ্যমিকে, বিশেষত মাধ্যমিকে ‘‌জেলার জয়’‌ কেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, জেলার ছাত্রছাত্রীদের বেশি নম্বর দেওয়া হয়, সরকারের ইচ্ছায়। ভিত্তিহীন শুধু নয়, জেলার মেধাবী ছেলেমেয়েদের অপমান। বাস্তবটা দেখা যাক। সন্দেহ নেই, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায়, উচ্চবিত্তরা, অনেক ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তরাও, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করেন, ভবিষ্যতের সুবিধার কথা ভেবে। সাধ্যের বাইরে গিয়েও, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত অভিভাবকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করান সন্তানদের। মেধাবীদের একাংশ থেকে যায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের আওতার বাইরে। কিন্তু, জেলার সাফল্যের এটা একমাত্র কারণ নয়। বলা উচিত নয়। বাংলায় জেলায় জেলায় অনেক ভাল সরকারি স্কুল আছে। আছেন উপযুক্ত শিক্ষকরা। তঁারা রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকেন। জেলায় জেলায়, ছাত্রছাত্রীরা ভাল ফল করছে, তাতে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। যারা ওপরের দিকে থাকছে, অনেক নম্বর পাচ্ছে, তারা একইসঙ্গে মেধাবী ও নিষ্ঠাবান। পড়াশোনাকে ওরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে, সারা বছর পরিশ্রম করছে। স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। শিক্ষকরা আন্তরিক। ছেলেমেয়েরা নিবেদিতপ্রাণ। নিজেদের উজ্জ্বল হিসেবে তুলে ধরার তাগিদ স্পষ্ট। কলকাতার ছাত্রছাত্রীরা কম মেধাবী নয়, কিন্তু অনেকের মনোযোগ কেড়ে নেয় নাগরিক জীবনের নানারকম সুযোগ–‌সুবিধা। যথা, সোশ্যাল মিডিয়া। উদাহরণ হাতের কাছে। উচ্চমাধ্যমিকে ৪ জন সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। একজন, কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের স্রোতশ্রী রায়। মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। স্রোতশ্রী মাধ্যমিকে ৯৬ শতাংশ নম্বর পেলেও, উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট–‌এ পায় ৮০ শতাংশ। শিক্ষক এবং অভিভাবকরা বলেন, শুধু পড়াশোনায় মন দিতে। স্রোতশ্রী নিজেই বলছে, এক বছর বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি সোশ্যাল মিডিয়ায়। মোবাইল দিনে ৬–‌৭ ঘণ্টা। ভুল, বুঝলাম। শেষ তিন মাস মোবাইল ছুঁইনি। শিক্ষা।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top