কাশ্মীরের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতবাসীর সম্পর্ক ছিন্ন প্রায় ৫০ দিন। কাশ্মীরবাসীরাই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না কতদিন। নেতারা বন্দি। মোবাইল, ইন্টারনেট বন্ধ। আশ্বাস ছিল, কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে পরিস্থিতি। সেটা হয়নি। ল্যান্ডলাইনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন মানুষ। এক বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ফোনে বলছেন, ‘‌কোনওরকমে চলছে, আর কিছু বলতে পারছি না।’‌ কীভাবে চলছে, তা–‌ও জানা মুশকিল। সংবাদপত্র কার্যত বন্ধ। কয়েকশো সংবাদপত্রের মধ্যে বেরোচ্ছে দু–‌তিনটি, সব ‘‌খবর’‌ কেন্দ্র তথা রাজ্যপাল তথা বাহিনীর ভারপ্রাপ্তরা অনুমোদন করলে, তবে প্রকাশ। সরকারি বিজ্ঞপ্তি। যে–‌কাগজ ছিল ৩২ পাতার, তা এখন ৮ পাতার। যা ছিল ১৬ পাতার, তা এখন ৪ পাতার। কয়েকজন সাংবাদিক বন্দি। অনেককে ভয় দেখানো হচ্ছে। খবর নেই, বিজ্ঞাপন নেই, করুণ অবস্থা। অনেক সংবাদকর্মীকে হারাতে হচ্ছে কাজ। তাঁদের আর্তি পৌঁছচ্ছে না আমাদের কাছে। ইউসুফ তারিগামি সিপিএম–‌এর নেতা, ১৫ বছরের বিধায়ক। জনপ্রিয়। অসুস্থ (‌এবং গৃহবন্দি)‌ তারিগামিকে দেখতে গেছেন সীতারাম ইয়েচুরি, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে। শর্ত ছিল, সাংবাদিক সম্মেলন করবেন না। করেননি। সুপ্রিম কোর্টেরই নির্দেশ, তারিগামিকে চিকিৎসার জন্য দিল্লির এইমস–‌এ ভর্তি করতে হবে। কিছুটা সুস্থ হয়েই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এই প্রথম আমরা অবরুদ্ধ ভূস্বর্গের কণ্ঠ সরাসরি শোনার সুযোগ পেলাম। তারিগামি বামপন্থীদের প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন। কখনও ভারতবিরোধী ছিলেন না। তবু গৃহবন্দি। মর্মস্পর্শী তাঁর কথা। বলছেন, যাঁদের বন্দি করা হয়েছে, তাঁরা শুধু কাশ্মীরি নয়, নিখাদ ভারতীয়। মনে করিয়ে দিলেন, শেখ আবদুল্লা ভারতের পক্ষে রাষ্ট্রপুঞ্জেও সওয়াল করেছেন। কাশ্মীরে প্রথম ভূমি সংস্কার করেছেন ফারুক আবদুল্লা, চিরকাল ভারতপ্রেমিক। মানুষের দুর্দশার কথা তারিগামি বললেন, বাড়তি আবেগ ছাড়া, আক্রমণ ছাড়া, কিন্তু কী মর্মস্পর্শী। কাশ্মীরের কণ্ঠ। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top