বাইচুং ভুটিয়া তৃণমূল ছাড়লেন। তৃণমূলের কিছু এসে গেল না। কিন্তু, কেন ছাড়লেন?‌ ছাড়ার কথা ঘটা করে জানাতেই বা হল কেন?‌ বাইচুং কত বড় ফুটবলার?‌ হ্যাঁ, বড়। চুনী–বলরাম–পিকে–র কথা ছেড়ে দিন, সুভাষ–সুরজিৎ–শ্যামের মানেরও নন। এমন একটা সময়ে এসেছিলেন, যখন উঁচুমানের ফরোয়ার্ডের অভাব। তাই বিস্তর অর্থ ও খ্যাতি পেয়েছেন। বলে রাখা ভাল, আজকের ভারত–অধিনায়ক সুনীল ছেত্রিও ফুটবলার হিসেবে বাইচুংয়ের চেয়ে বড়। যা–ই হোক, ‘‌বড় ফুটবলার।’‌ অনেক কিছু পেয়েছেন। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন–এর কর্তারা তাঁকে যতদিন সম্ভব টিমের মাথায় রেখেছেন। খেলা ছাড়ার পরও ‘‌উপদেষ্টা’‌ হিসেবে মাথায় তুলে রেখেছেন। ভারতীয় ফুটবলের মুখ হিসেবে সর্বত্র সামনে রেখেছেন। খেলার সময়ে এবং পরে এত সুবিধা–সম্মান পেয়েও তিনি তৃপ্ত নন। চাই। আরও চাই। সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে মমতা ব্যানার্জি ২০১৪ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করেন। শোনা যেত, পাহাড়ে নাকি তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। হারলেন বড় ব্যবধানে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল আরও ভালভাবে জিতল। শিলিগুড়িতে হারলেন বাইচুং, যিনি নাকি ওই শহরে তুমুল জনপ্রিয়!‌ তারপর আশা, রাজ্যসভায় যাওয়ার। পাহাড়ের রাজনীতির কথা ভেবে অভিজ্ঞ শান্তা ছেত্রিকে বাছলেন মমতা। হতাশ বাইচুং, যাঁর অনেক কিছু চাই। হঠাৎ একদিন গোর্খাল্যান্ড–এর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে বসলেন। পবন চামলিংয়ের মদতে সিকিম থেকে রাজ্যসভায়?‌ বাংলা তাঁকে এত দিয়েছে, সেই বাংলার সঙ্গে এমন বিশ্বাসঘাতকতা। এমনও শোনা যাচ্ছে, সিকিমে আলাদা দল করবেন। একটা ফুটবল দল করেছিলেন, হাল ছেড়েছেন। রাজনৈতিক দলের হালও কি তেমনই হবে?‌ সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান?‌ চাওয়ার শেষ নেই। বাইচুং, আমাদের বিস্ময়েরও শেষ নেই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top