দিল্লিতে হিংসাত্মক ঘটনার পর, দুটো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছিল, পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আহত কয়েকজন পুলিশকর্মী। প্রথমে ঘুরল ফোনে ফোনে, কিন্তু একটি চ্যানেল যখন দেখাল এবং বলল যে, দেখুন, কীভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, গুরুত্ব পেল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘‌সংখ্যালঘুরা’‌ পাথর ছুড়ছে পুলিশের দিকে। যথারীতি, চ্যানেলের অনুষ্ঠানে হাজির বিজেপি–‌ভক্তরা সরাসরি বলেন, প্রমাণিত হয়ে গেল, হিংসার, ৫০ জনের মৃত্যুর প্রধান কারণ, সংখ্যালঘুরা আক্রমণ করেছে। ‘‌সংখ্যালঘুরা’‌, কী করে বোঝা গেল?‌ না, প্রধানমন্ত্রী–‌কথিত ‘‌পোশাক থিওরি’‌ এখানে প্রয়োগ করা যাবে না। তবু নাকি বোঝা গেল!‌ সারাদিন ধরে দেখানো হল, কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ কর্মীরা, কীভাবে হিংসার ঘটনা ঘটিয়েছেন সংখ্যালঘুরা। বিষাক্ত প্রচার চলতে থাকল। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর হয়তো কিছু লোক পাথর ছুড়েছে, যদি ছুড়ে থাকে, চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হোক, শাস্তি দেওয়া হোক। দু’‌দিন পর উল্টো খবর শোনা গেল নানা চ্যানেলে। ছবিটা দু’‌মাস আগের, গুজরাটের। একটি ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে কিছু লোকের খণ্ডযুদ্ধ হয়েছিল, তার ছবি। দ্বিতীয় ভিডিওতে পরিষ্কার, পুলিশ ‌‘‌নিষ্ক্রিয়’‌ ছিল না। বাইরে থেকে আনা পাথর ছুড়ছে পুলিশ এবং গুন্ডাদের প্ররোচিত করছে, মারো, পাথর ছোড়ো। সব সূত্রে খোঁজ নিয়ে বোঝা গেল, উল্টো কথা বলার সুযোগ নেই। একটিতে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ছবি, অন্যটিতে পরিষ্কার, পাথর ছুড়ছে ও প্ররোচিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে সঙ্ঘপন্থী প্রচার মানেই মিথ্যা, তা নয়, ব্যতিক্রম থাকতে পারে। বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। করা হবে না। প্রধানত দায়ী তো শাসক শিবির। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top